বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

২৪-এর আন্দোলন ছিল সমতার পক্ষে, তবু নারীরা রয়ে গেল বৈষম্যের মুখে

WhatsApp Image 2025-10-14 at 10.02.24 AM

২৪ এর আন্দোলন বৈষম্যের বিরুদ্ধে নারীরা এখনও বৈষম্য ও বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন এক আলোচনা সভায় বক্তারা। 

তারা বলেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার এখনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। বাল্যবিবাহ রোধে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্নমুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কন্যাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের দায় কেউ নিচ্ছেনা। তাই নারীর ক্ষমতায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ এবং মালিকানাবোধ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক কাঠামো ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতেই হবে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘অধিকার এখানেই, এখনই ’প্রকল্পের আওতায় নাগরিক উদ্যোগ ‘রাজনৈতিক

দলের নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের সুস্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি ও প্রত্যাশা বিষয়ক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী জয়িতা হোসেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)র সামান্থা শারমিন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের জাকিয়া শিশির, বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি লুনা নূর, গোলাম মোস্তফা, , মজিবুর রহমান ভূঁইয়া (মঞ্জু), চেয়ার পারসন, আমার বাংলাদেশ পার্টি, মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, গণ সংহতির নাগরিক ঐক্য, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের তৌফিকুজ্জামান,  ছাত্র অধিকার পরিষদের রোকেয়া জাভেদ মায়া প্রমুখ ।

বাপসার  নির্বাহী পরিচালক ড. আলতাফ হোসেন বলেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আইন ও বিধি থাকলেও কার্যকর প্রয়োগের

যথেষ্ট অভাব রয়েছে। স্বাস্থ্যকে বিজ্ঞানসম্মত নীতিমালার আওতায় এনে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার-কে জাতীয়

স্বাস্থ্য নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মাসিক স্বাস্থ্য বিধি-কে গুরুত্ব দিয়ে মূল পর্যায়ে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে হবে, কারণ সামাজিক ট্যাবুর কারণে অনেক মেয়ে স্কুলে যাওয়া বা পানি পান করা থেকেও বিরত থাকে। দেশের নাগরিক সংগঠন ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে মানবাধিকার, মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

সামান্থা শারমিন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে হবে। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার নিশ্চিত করতে অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। সুস্থতা নিশ্চিতে দক্ষ চিকিৎসকদের সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সমাজকে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সমতার ভিত্তিতে সবাইকে এই আলোচনায় যুক্ত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তরা নারীদের কাজের জন্য রাজনৈতিক দলে পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে। পরিবারে বাবা-মা ও সন্তানদের বন্ধুত্বসুলভ আলোচনা করার পাশাপাশি, রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহবান করেন।

সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সম-অধিকার নিশ্চিত, বিবাহিত,অবিবাহিত, লিঙ্গ বৈচিত্র্যময়, প্রান্তিক, সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী সহ সকল মানুষকে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সেবার সহজলভ্যতা বৃদ্ধি ও নিশ্চিত করা। লিঙ্গভিত্তিক ও পারিবারিক সহিংসতা, বাল্যবিবাহ এবং সাইবার অপরাধের সহ সকল রকম হয়রানি যা কিশোর-কিশোরী ও তরুণ সমাজের বিকাশে বাধা প্রদান করে সেসকল কর্মকাণ্ড বন্ধে আরও কার্যকারী ভূমিকা রাখা, আইনে হিজড়া লিঙ্গ সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট মর্যাদাপূর্ণ সংজ্ঞা প্রদান করা এবং অন্যান্য লিঙ্গ বৈচিত্র্যর পরিচয়ের সুনির্দিষ্ট পার্থক্য স্পষ্ট করার মাধ্যমে আইনিভাবে হিজড়াসহ সকল লিঙ্গ বৈচিত্র্যের ব্যক্তির মৌলিক অধিকার রক্ষা ও সার্বিক উন্নয়ন

নিশ্চিত করা মনো-সামাজিক স্বাস্থ্যকে মূলধারার স্বাস্থ্য সেবার মধ্যে অন্তর্ভুক্তি করে এ বিষয়ে চলমান কুসংস্কারকে দূরীকরণে দৃঢ়ভাবে কাজ করা
এবং এই সেবার সহজলভ্যতা বৃদ্ধি করার সুপারিশ করা হয়।