বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
স্পটলাইট

বাংলাদেশের ৭৬% নারী স্বামীর সহিং/সতার শিকার

nari aj

বাংলাদেশের নারীরা কোনা না কোনোভাবে সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এ সহিংসতার ধরনের মধ্যে আছে– শারীরিক, মানসিক, যৌন, অর্থনৈতিক ও নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ। এর মধ্যে জীবনে অন্তত একবার স্বামীর হাতে সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৭৬ শতাংশ নারী। সহিংসতার শিকার হলেও ৯৩ শতাংশ নারীই প্রতিকারমূলক কোনো আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটেননি। আবার অনেক নারী সহিংসতার কথা কখনও প্রকাশই করেননি।

গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ ২০২৪’-এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)। প্রতিবেদনে নারীর সামাজিক বিপন্নতার চিত্র উঠে এসেছে।

জাতিসংঘের স্বীকৃত পদ্ধতিতে দেশের থানাভিত্তিক শহর, গ্রাম, দুর্যোগপ্রবণ, বস্তি এলাকাসহ ২৭ হাজার ৪৭৬ নারীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। গত বছরের মার্চ থেকে এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

সহিংসতা থেমে থাকেনি গর্ভাবস্থায়ও

Advertisements

জরিপে জাতিসংঘের নির্ধারিত সহিংসতার ধরন ছাড়াও বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক আচরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জরিপের সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়। জরিপে দেখা যায়, জীবদ্দশায় স্বামীর হাতে শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৫৪ শতাংশ অর্থাৎ অর্ধেকের বেশিসংখ্যক নারী। এ সহিংসতা থেমে থাকেনি গর্ভাবস্থাতেও। গর্ভ অবস্থায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ নারী শারীরিক ও যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৫ দশমিক ৩ শতাংশ নারী। 

প্রযুক্তির সহিংসতাও রয়েছে

নারী্রা প্রযুক্তির মাধ্যমেও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৮ দশমিক ৩ শতাংশ নারী। এর মধ্যে রয়েছে যৌন ব্ল্যাকমেইল, ছবি অপব্যবহার এবং ডিজিটাল নজরদারি। সহিংসতার শিকার নারীরা অর্থ ব্যয় এবং সামাজিক ভয়ে চিকিৎসা নেন না। জরিপে আরও দেখা যায়, ৫২ শতাংশ নারীই জানেন না কোথায় অভিযোগ জানাতে হয়। 

যৌতুক মূল কারণ

নারীর প্রতি সহিংসতার মূল কারণ হচ্ছে যৌতুক প্রথা। এ ছাড়াও স্বামীর মাদকাসক্তি, বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক ও শহুরে বস্তিতে বসবাস নারীদের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। অন্যদিকে দেখা যায় স্বামীর উচ্চতর শিক্ষা সহিংসতার আশঙ্কা কমায়।

সহিংসতা আগের তুলনায় কমেছে 

জরিপে দেখা যায়, সহিংসতা আগের তুলনায় ১৭ শতাংশ কমেছে। নারীর প্রতি সহিংসতা এখনও উচ্চ মাত্রায় রয়ে গেলেও আগের তুলনায় তা কিছুটা কমেছে। ২০১৫ সালের জরিপে স্বামীর হাতে সহিংসতার শিকার নারীর হার ছিল ৬৬ শতাংশ। সেখান থেকে বর্তমানে কমে ৪৯ শতাংশ হয়েছে।

সব পক্ষকে দায়িত্বশীল হতে হবে

আলোচকরা সহিংসতা প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং বলেন, পরিসংখ্যানে বাংলাদেশে নারীর বাস্তব চিত্র তুলে এনেছে। এগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্ন। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য ড. কাইয়ুম আরা বেগম বলেন, সামাজিক দায়িত্বহীনতা থেকেই অস্থিরতা ও সহিংসতা সৃষ্টি হয়। সহিংসতা বন্ধে রাষ্ট্র ও পরিবারকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

Advertisements