তিন কিশোর-কিশোরী পেলেন শিশু নোবেলের জন্য মনোনয়ন

নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা কিডসরাইটস ফাউন্ডেশনের ‘শিশু নোবেল’ খ্যাত পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছে জামালপুরের দুই সহোদরসহ তিন তরুণ-তরুণী। তারা হচ্ছে– কারিমা ফেরদৌসী কেকা (১৭), কাশফিয়া জান্নাত কুহু (১৪) ও আব্দুল্লাহ আল শিহাব (১৭)। শিশু অধিকার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক পরিবর্তনে বিশেষ অবদানের জন্য এই মনোনয়ন পেয়েছে তারা।
প্রতিষ্ঠানটি ২০০৫ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী শিশু অধিকার, শান্তি ও মানবিক পরিবর্তনে অবদান রাখা কিশোর-কিশোরীদের পুরস্কার দিয়ে আসছে। সংস্থাটি প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ অধিকারকর্মীদের মধ্য থেকে প্রার্থী মনোনয়ন করে থাকে। এ বছর প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়েছে দুই শতাধিক তরুণ-তরুণী, যার মধ্যে রয়েছে জামালপুরের তিন তরুণ-তরুণী।
জানা গেছে, কারিমা ফেরদৌসী কেকা ও কাশফিয়া জান্নাত কুহু মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচুড়া ইউনিয়নের মোমেনাবাদ এলাকার কাইউম হিলালী মাইকেল ও শিউলী খাতুন দম্পতির মেয়ে। বড় বোন কেকা ঢাকার একটি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যায়নরত। ছোটবেলা থেকেই সমাজ পরিবর্তনের কাজে যুক্ত সে। বিশেষ করে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ, নারী-পুরুষ সমতা ও জলবায়ু সচেতনতা গড়ে তোলায় কাজ করছে।
কেকা জানায়, নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। মেয়ে শিশুদের অল্প বয়সে বিয়ে বন্ধ করতে না পারলে তারা শিক্ষা ও স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত হয়।
ছোট বোন কাশফিয়া জান্নাত কুহু মাদারগঞ্জের রওশন আরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বড় বোনের অনুপ্রেরণায় সেও শিশু অধিকার ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কাজে যুক্ত। মনোনয়নের খবর পেয়ে কুহু বলে, ‘আমি জানতামই না আমার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। সকালে আপু জানালে আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। এটা আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের খবর।’আব্দুল্লাহ আল শিহাব বকশিগঞ্জ উপজেলার মির্ধাপাড়া এলাকার আলতাব হোসেন ও কহুলা বেগম দম্পতির ছেলে। সে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, শিশু সুরক্ষা ও লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২০২৩ সালে ধানুয়া কামালপুর কো-অপারেটিভ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে। এরপর ভর্তি হয় ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে।
শিহাবের ভাষ্য, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি সামাজিক দায়িত্ব। সে তার এলাকা ও স্কুলের বন্ধুদের নিয়ে শিশু অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এই মনোনয়ন পেয়ে পরিবারে আনন্দের জোয়ার।
কেকা ও কুহুর বাবা কাইউম হিলালী মাইকেল বলেন, তার দুই মেয়ের এমন সাফল্যের খবর পেয়ে ভীষণ আনন্দিত তার পরিবার।
শিহাবের বাবা আলতাব হোসেন জানান, ছোটবেলা থেকেই শিহাব মানুষের পাশে থাকতে চেয়েছে। এখন সে বিশ্বের শিশু অধিকার কর্মীদের সঙ্গে কাজ করবে এটিই বড় প্রাপ্তি।
মাদারগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির শাহ এবং শাহ জহুরুল হোসেন সমকালকে জানান, পুরস্কারটি যেহেতু আন্তর্জাতিক সংস্থার। তাই এখনও প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা আসেনি। তাদের ভাষ্য, এটি একটি বড় সাফল্য এবং মাদারগঞ্জ ও বকশীগঞ্জবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। এরই মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওইসব পরিবারকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।



