৯ মাসে নির্যা/তনের শিকার ৯৯৩ কন্যাশিশু

দেশে সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা দিনদিন বেড়েই চলছে। বাল্যবিয়ে, যৌন নির্যাতন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মতো ঘটনায় প্রতিদিনই তাদের শৈশব হারিয়ে যাচ্ছে। সমাজে সচেতনতা ও আইন থাকলেও বাস্তবে নিরাপদ শৈশব যেন এখনো স্বপ্ন কন্যা শিশুদের জন্য। আমাদের দেশে কন্যাশিশুরা এখনও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। অধিকাংশ ভুক্তভোগী অতি দরিদ্র পরিবারের। অনেক ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর আত্মীয় ও পরিচিত।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনবিষয়ক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পাওয়া গেছে গত ৯ মাসে ৯৯৩ কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছে। এ বছর মোট ৩৫০ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। শুধু সেপ্টেম্বরেই ধর্ষণের শিকার হয়েছে ২৯ জন, যাদের বয়স ধরা হয়েছে শূন্য থেকে ১৮ পর্যন্ত। এই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্নভাবে নির্যাতন এবং সহিংসতার শিকার হয়েছে ২ হাজার ২৩৭ নারী ও কন্যাশিশু।
এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২২৪ নারী ও কন্যাশিশু, প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
অন্যদিকে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম পরিচালিত কন্যাশিশুর ওপর নির্যাতন ও সহিংসতার চিত্র পর্যবেক্ষণবিষয়ক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট—এই ৮ মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল ২২৪ কন্যাশিশু। ২০২৩ সালে একই সময়ে সেই সংখ্যা ছিল ৪৯৩ জন।
ধর্ষণ বা দলবদ্ধ ধর্ষণের পর ১৫ শিশু খুন হয়েছে, আত্মহত্যা করেছে ৫ জন। এ ছাড়া গত ৮ মাসে ১৩৪ কন্যাশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। গত বছরের একই সময়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল ৩২ কন্যাশিশুকে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) বরাতে প্রতিবেদনে ৮৪টি আলোচিত ধর্ষণ মামলার ভিকটিম এবং ধর্ষণের ঘটনার বাদী ও বিবাদীর সাক্ষাৎকারভিত্তিক তথ্য তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে মাদকাসক্ত ও পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত। আর ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই শিশু ও শিক্ষার্থী। অনেক ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর আত্মীয় ও পরিচিত। এ ছাড়া অধিকাংশ ভুক্তভোগী অতি দরিদ্র পরিবারের।
সেখানে আরও বলা হয়, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালে সংঘটিত ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্তদের ২০ দশমিক ২৩ শতাংশ মাদকাসক্ত, ২৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত। আর ভুক্তভোগীদের ৭২ দশমিক ৬১ শতাংশ শিশু ও শিক্ষার্থী।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ বছরে কৈশোর বয়সী মেয়েদের জীবনে কিছু অগ্রগতি হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বের প্রায় সবখানে তাদের অধিকার এখনো লঙ্ঘিত হচ্ছে। ইউনিসেফ আরও বলেছে, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কন্যা ও তরুণীদের শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণে না থাকার আশঙ্কা ছেলেদের তুলনায় দ্বিগুণ।
কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। শুধু পরিবার বা অভিভাবকদের সচেতন হলে হবে না, সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। এছাড়াও আইন প্রণয়ন করতে হবে, শুধু আইন প্রণয়ন করলে হবে না আইনের সঠিক বাস্তবায়ন থাকতে হবে।



