নিনাদের প্রথম প্রযোজনা: সাদিকা স্বর্ণার একক অভিনয়

একজন নারীর একক লড়াই। একটি টেলিফোন আলাপের ভেতর লুকিয়ে থাকা হাজারো আবেগ, অপূর্ণতা আর হৃদয়ভাঙার ব্যথা। আর সেই গল্প নিয়েই ‘দ্য হিউম্যান ভয়েস’।
নাট্যসংগঠন নিনাদের প্রথম প্রযোজনা এটি। গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন। নাটকটি ফরাসি নাট্যকার জঁ কক্তো রচিত। নাটকটি বাংলা অনুবাদ ও রূপান্তর করেছেন প্রজ্ঞা তাসনুভা রুবাইয়াৎ, যিনি নাটকটির নির্দেশনাও দিয়েছেন।
‘দ্য হিউম্যান ভয়েস’-এ দেখা যায় একজন নারীর একক লড়াই। যিনি তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে শেষবারের মতো টেলিফোনে কথা বলছেন। পরদিনই অন্য এক নারীকে সেই প্রেমিক বিয়ে করতে যাচ্ছে। ফোনের ওপারে দীর্ঘশ্বাসের মতো নীরবতা, কাঁপা কণ্ঠে ভালোবাসার স্মৃতি, আর নিজের ভেতরে ফুঁসে ওঠা অসহায়তার শব্দ। সব মিলিয়ে তৈরি হয় মানসিক অস্থিরতার এক গভীর নাট্যভাষা।
নাটকটিতে একক অভিনয় করেছেন সাদিকা স্বর্ণা। তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করে আসছেন অভিনয় ও মডেলিংয়ের জগতে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এই চরিত্রটি তাঁর কাছে ছিল এক নতুন চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, ‘নির্দেশক প্রজ্ঞা তাসনুভা রুবাইয়াৎ যখন নাটকের ভাবনা শুনিয়েছিলেন, তখনই মনে হয়েছিল এই চরিত্রে আমি আমার নিজের অনেক অংশ খুঁজে পাব। ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, মানসিক টানাপোড়েন। এসব তো আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে পেরিয়ে আসি। এই নারীর যন্ত্রণা অনেকটাই আমার নিজের জীবনের সঙ্গে মিলে গেছে।’
ভাষাগত ও আবেগগত দিক থেকে বিদেশি নাটক নিয়ে কাজ করা যে সহজ নয়, সেটিও তুলে ধরেন স্বর্ণা। তিনি বলেন, ‘বিদেশি ভাষার নাটকে অনুবাদে অর্থ হারিয়ে যায় অনেক সময়। কিন্তু প্রজ্ঞা সেটা অত্যন্ত নিপুণভাবে ধরে রেখেছেন। অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তিনি আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। নিজের মতো করে চরিত্রটিকে অনুভব করার, নিজের মতো করে ভাঙার সুযোগ। সেই জায়গা থেকেই আমি এই চরিত্রে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি।’
নাটকটির মঞ্চায়নে দর্শকদের জন্য আয়োজন করা হয় একটি বিশেষ প্রাক্-প্রদর্শনী ইনস্টলেশন, যেখানে নাটকের মূল প্রদর্শনী শুরু হওয়ার আগেই চরিত্র ও পরিবেশের আবহে প্রবেশ করতে পারেন। এই অংশটি নকশা করেছেন তরুণ শিল্পী রাব্বী আহমেদ, যা নাটকের মানসিক যাত্রাটিকে আরও গভীর করেছে।
নিনাদ-এর এই প্রযোজনা শুধু একটি মঞ্চনাটক নয় বরং ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের ভেতরে লুকিয়ে থাকা মানসিক সংকটের এক মানবিক আর্তনাদ।



