বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

বিশ্বব্যাপী সোনা কেনার নতুন কেন্দ্রবিন্দু এখন কাজাখস্তান

1759733343_gold-9

বিশ্ববাজারে যখন সোনার দাম আকাশছোঁয়া, তখনও দেদার সোনা কিনে সবাইকে অবাক করছে মধ্য এশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত দেশ কাজাখস্তান। এক মাসেই বিশ্বের মোট সোনা ক্রয়ের অর্ধেকের বেশি কিনে দেশটি নজর কেড়েছে অর্থনীতিবিদদের।

অগস্ট মাসে বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক মিলে মোট ১৫ টন সোনা কিনলেও, একাই ৮ টন কিনেছে কাজাখস্তান। ফলে দেশটির সোনার মজুত এখন দাঁড়িয়েছে ৩১৬ টনে— যা গত বছরের তুলনায় ৩২ টন বেশি। টানা ছ’মাস সোনা কেনার ধারাবাহিকতায় দেশটি পেরিয়েছে ৩০০ টনের মাইলফলক।

সোনা কেনার দৌড়ে কাজাখস্তানের পাশাপাশি রয়েছে উজবেকিস্তান, তুরস্ক, চিন, বুলগেরিয়া, ঘানা এবং চেক রিপাবলিক। তবে মাসিক হিসাবে সবচেয়ে বড় ক্রেতা এখন কাজাখস্তানই।

অন্যদিকে, সঞ্চয় থেকে সোনা বিক্রি করেছে মাত্র দুটি দেশ—রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। জানা গেছে, রাশিয়া তাদের মুদ্রা তৈরির কর্মসূচির জন্য ৩ টন সোনা বিক্রি করেছে, আর ইন্দোনেশিয়া বিক্রি করেছে ২ টন।

উজবেকিস্তানও পিছিয়ে নেই; দেশটি তাদের রিজার্ভে আরও ২ টন সোনা যোগ করে মোট মজুত দাঁড় করিয়েছে ৩৬৬ টনে। যদিও ২০২৪ সালের তুলনায় এবার কিছুটা কম সোনা কিনেছে তারা।

বছরের প্রথম তিন মাসে কাজাখস্তান কিনেছিল ৬.৪৫ টন সোনা। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সেই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৬ টনে। ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যতম বড় সোনার রিজার্ভধারী রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে দেশটি।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২০ সালে কাজাখস্তানের মাথাপিছু আয় ছিল ৯,১২২ ডলার— যা মধ্য এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে অন্যতম বেশি। শক্তিশালী অর্থনীতির পাশাপাশি এখন সোনার ভান্ডারেও তারা শীর্ষ সারিতে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির মধ্যে সোনা কেনার আগ্রহ একেবারে হারায়নি।

তুরস্ক ও চিন উভয় দেশই গত মাসে ২ টন করে সোনা কিনেছে। ফলে তুরস্কের মোট মজুত এখন ৬৩৯ টন, আর চিনের ভাণ্ডারে জমেছে বিশাল ২,৩০০ টন সোনা। ইউরোজ়োনে যোগদানের প্রস্তুতিতে থাকা বুলগেরিয়াও পিছিয়ে নেই— তাদের সঞ্চয় পৌঁছেছে ৪৩ টনে, যা ১৯৯৭ সালের পর সর্বোচ্চ।

চেক রিপাবলিকও টানা ৩০ মাস ধরে সোনা কেনা অব্যাহত রেখেছে, তাদের ভাণ্ডারে এখন ৬৫ টন সোনা রয়েছে।

তবে এখনোও বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সোনার মালিক যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ফেডারেল ব্যাংকের গুদামে রয়েছে প্রায় ৮,১৩৩ টন সোনা— যা গত ২৫ বছরেও প্রায় অপরিবর্তিত। এরপর স্থান দখল করেছে জার্মানি (৩,৩৫০ টন), ইতালি (২,৪৫২ টন), ফ্রান্স (২,৪৩৭ টন) এবং রাশিয়া (২,৩৩০ টন)।

ভারতও ডলারনির্ভরতা কমিয়ে সোনা জমানোর পথে হাঁটছে। বর্তমানে রিজার্ভ ব্যাংকে রয়েছে ৮৪০ টন সোনা, যা জাপান ও তুরস্কের ঠিক পরেই অবস্থান করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও ডলারের ওঠানামার কারণে বহু দেশ এখন সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছে। মুদ্রার স্থিতিশীলতা ও বৈদেশিক রিজার্ভের ভারসাম্য রক্ষার জন্য সোনার উপর নির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়—
“শুধু ডলার নয়, এখন সোনাই হচ্ছে স্থিতিশীলতার প্রতীক।”