বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

‘ঢাবির ক্রীড়াঙ্গনের সিন্ডিকেট ভাঙতে চাই’

WhatsApp Image 2025-10-08 at 6.56.17 PM

ঠাকুরগাঁওয়ের এক প্রত্যন্ত গ্রামেই বেড়ে ওঠেন লামিয়া আক্তার লিমা। ছোট শহরের সেই মেয়েটিই এখন হয়ে উঠেছেন অনেকের অনুপ্রেরণা। পেশাদার হকি খেলোয়াড় লিমা বর্তমানে পড়ছেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শামসুন্নাহার হল সংসদের বহিরঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত হতে ও ঢাবির খেলাধুলার সিন্ডিকেট ভাঙার স্বপ্ন নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন লিমা।

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়াঙ্গনের দুর্নীতি, খেলোয়াড় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম, খেলার সরঞ্জাম ও দলীয় দখলদারিত্ব মুক্ত করে ক্রীড়াঙ্গনকে সুস্থ ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে গড়ে তুলতে চান লামিয়া আক্তার লিমা। তার শেকল ভাঙার গল্প শুনেছেন ঢাকা পোস্টের ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি রেদওয়ান মিলন। 

লামিয়া আক্তার লিমা ঢাকার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের পেশাদার খেলোয়াড়। ছোটবেলা থেকেই হকির প্রতি তাঁর ভালোবাসা। ঠাকুরগাঁওয়ের প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠা এই মেয়ে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসহ বিভিন্ন খেলার মঞ্চে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর লামিয়া মূলত খেলোয়াড় কোটায় ভর্তি হন। শুরুর দিন থেকেই তিনি হলের প্রতিটি খেলায় অংশগ্রহণ শুরু করেন। খেলায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি লক্ষ্য করেন, খেলোয়াড়দের প্রয়োজন এবং খেলাধুলার মান উন্নয়নে কিছু ঘাটতি রয়েছে। ডাকসু নির্বাচনের খবর শুনে তিনি দেখলেন, হল সংসদের বহিরঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক পদে এক সুযোগ রয়েছে—যার মাধ্যমে তিনি এই ঘাটতিগুলো পূরণ করতে পারেন।

“আমি জানতাম, যেহেতু আমি হলের প্রতিটি খেলায় অংশ নিচ্ছি, তাই খেলোয়াড়দের সমস্যাগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারব। আর সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে খেলাধুলার মানোন্নয়নে কাজ করতে পারব,” বললেন লামিয়া। শামসুন্নাহার হলে আবাসিক চার হাজার শিক্ষার্থী থাকায়, এই পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। কিন্তু হলের শিক্ষার্থীরা যখন সমর্থন জানায়, তখন একপ্রকার কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। এর ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি শামসুন্নাহার হল সংসদের বহিরঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন।

লামিয়া শুধুমাত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেননি, তিনি দেখেছেন নারীদের খেলার জন্য সরঞ্জাম, দক্ষ প্রশিক্ষক এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ কতটা প্রয়োজন। পড়াশোনার ব্যস্ততার মধ্যে মেয়েরা নিজের ফিটনেস বজায় রাখতে পারছে না। সেই কারণেই তিনি হলের জিমনেসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন। শিক্ষার্থীদের চাহিদা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পূরণ করার পরিকল্পনাও তার রয়েছে।

“গত কয়েক বছরে ক্রীড়াঙ্গনে যে দুর্নীতি, খেলোয়াড় বাছাইয়ে অনিয়ম, সরঞ্জাম ও দলীয় দখলদারিত্বের সিন্ডিকেট লক্ষ্য করেছি, আমি চাই তা ভেঙে সুস্থ ও স্বচ্ছভাবে খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তুলতে,” বলেন তিনি।

লামিয়ার খেলাধুলার জীবন হকির মাধ্যমে শুরু হলেও পরবর্তীতে খো খো-তেও তার আগ্রহ দেখা গেছে। তিনি লক্ষ্য করেছেন, দেশের হকিতে নারীদের অবস্থা এখনও অনেকটা পিছিয়ে। ফেডারেশন নারীদের যথাযথ সমর্থন দেয় না, পরিচর্যা কম, সুযোগ সীমিত। লামিয়ার লক্ষ্য, নারীদের জন্য খেলাধুলার সব সুযোগ উন্মুক্ত করা এবং তাদের পরিশ্রমের প্রতিদান নিশ্চিত করা। “যারা এত কষ্ট করে খেলছে, তারা যেন দেশের বড় দায়িত্বও পালন করতে পারে—খেলাধুলার মাধ্যমে,” যোগ করেন তিনি।

লামিয়া আক্তার লিমার গল্প শুধু এক খেলোয়াড়ের কাহিনি নয়; এটি এক তরুণীর দৃঢ় সংকল্প, নিজের পরিচয় প্রমাণ করার ও খেলাধুলার মান উন্নয়নের এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা।