বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

জাতিসংঘের বায়োসিকিউরিটি ফেলোশিপ পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি নারী মারজানা

WhatsApp Image 2025-10-08 at 16.53.29_5ee989c8

২০২৫ সালে ইউনাইটেড নেশনস ইয়ং ওমেন ফর বায়োসিকিউরিটি ফেলোশিপ -এর জন্য সারা বিশ্বের ১৯৩টি সদস্য দেশ থেকে ১০ জন তরুণী নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ‘মারজানা’।

এই ফেলোশিপের লক্ষ্য হলো জীববিজ্ঞানের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং বায়োসিকিউরিটি সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি। ফেলোশিপটি আয়োজন করেছে United Nations Office for Disarmament Affairs (UNODA), Biological Weapons Convention-এর ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আগামী ডিসেম্বরে এই ফেলোশিপের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উপস্থিত থাকবেন বিশ্বের শীর্ষ গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন মারজানা—দেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

একাডেমিক যাত্রা: 

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মারজানার শিক্ষাজীবন শুরু। যেখানে তিনি বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি-তে বিএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি থেকে মাইক্রোবায়োলজি-তে এমএসসি করেন।

তার মাস্টার্স গবেষণায় তিনি বাংলাদেশের পোলট্রিতে Chicken Infectious Anemia Virus (CIAV) নিয়ে কাজ করেন এবং দেশে প্রথমবারের মতো Genotype IIIb strain শনাক্ত করেন—ভাইরোলজি গবেষণায় এক উল্লেখযোগ্য অবদান।

গর্ভাবস্থায় থিসিস:

মারজানা যখন তার থিসিস নিয়ে কাজ করছিলেন, তখন তিনি গর্ভবতী। সকালে ক্লাস, দুপুরে ল্যাবে কাজ, রাতে থিসিস লেখা—সব কিছুই চলছিল শারীরিক অস্বস্তি সহ্য করে। গর্ভাবস্থার ষষ্ঠ মাসে তিনি গুরুতর শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন এবং পাঁচ দিন আইসিইউ-তে ভর্তি থাকতে হয়। সেই মুহূর্তগুলো ছিল জীবন-মরণের লড়াই।

ঠিক সেই সময়ে, তার স্বামী ইউশা আরাফ নিউজিল্যান্ডে যান পিএইচডি করতে। একাকী, অসুস্থ, চাপের মধ্যে—তবুও মারজানা হাল ছাড়েননি।

কয়েক মাস পর, মারজানা তার মেয়ে আনাইজার জন্ম দেন। সন্তান জন্মের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই তিনি সফলভাবে তার থিসিস ডিফেন্স করেন। মারজানা বলেন, “আমার যাত্রা কঠিন ছিল, কিন্তু আমি জানতাম যদি আমি হাল না ছাড়ি, তাহলে একদিন আমার সংগ্রাম শক্তিতে পরিণত হবে। আনাইজা আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।”

মারজানা তাঁর সাফল্য নিয়ে বলেন,“ইউএন ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত হওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানগুলোর একটি। আমি চাই আমাদের দেশের মেয়েরা জানুক যে কোনো অসুস্থতা, কষ্ট বা বাধা তাদের স্বপ্ন থেকে দূরে রাখতে পারে না। আমার লক্ষ্য হলো বিজ্ঞানকে মানবকল্যাণে ব্যবহার করা।”

আন্তর্জাতিক রিসার্চ পেপার ৯টি:

মারজানা ইতিমধ্যে ৯টি আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন স্বনামধন্য জার্নালে। তার গবেষণার ক্ষেত্র:

  • Virology (ভাইরাস নিয়ে গবেষণা)
  • Antimicrobial Resistance (AMR) (অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ)
  • Infectious Diseases (সংক্রামক রোগ)