বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

মাদলিন কুলাব হয়ে উঠলেন গাজার প্রতিরোধের প্রতীক

WhatsApp Image 2025-10-06 at 7.25.47 PM

গাজার অবরোধ ভাঙতে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানবাধিকারকর্মীরা এক অভিনব কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন—নাম ‘থাউজ্যান্ডস মাদলিনস টু গাজা’। এই উদ্যোগের পেছনে প্রতীক হয়ে উঠেছেন গাজার প্রথম নারী জেলে মাদলিন কুলাব, যিনি এখন একটি ভাঙা ঘরের পরিত্যক্ত কোণে বসবাস করছেন গাজা সিটিতে।

মাদলিনের সংগ্রামী জীবন, সাহসিকতা আর প্রতিকূলতার মুখে টিকে থাকার লড়াই তাকে বানিয়েছে প্রতিরোধের এক জীবন্ত প্রতীক। তাই তার নামেই নামকরণ হয়েছে এই বহর অভিযানের।

এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য—ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো। স্লোগান: ‘হাজার জাহাজ, লক্ষ্য এক—মুক্ত গাজা’।

প্রথম ধাপে ৪৪টি নৌযান নিয়ে যাত্রা করেছিল ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’, যেগুলো ইসরায়েল আটকে দিয়েছে। এরপর এগিয়ে আসছে ১১টি নৌযান নিয়ে ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’। ধারণা করা হচ্ছে, এটিও বাধার মুখে পড়তে পারে। তবে পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত—দফায় দফায় হাজারো নৌযান পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

বিশ্বজুড়ে এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা মাদলিন কুলাব নিজেও বিস্মিত। যখন তিনি জানতে পারেন, তার সংগ্রামের গল্প এখন বিশ্বব্যাপী এক প্রতীকী প্রতিবাদের রূপ নিয়েছে।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়, মাদলিনের বাবা ছিলেন জেলে। তাঁর স্বামী খাদের বাকরও (৩২) জেলে। তিনি আগে ইসরায়েল যতদূর যেতে দিত, ততদূর পর্যন্ত সাগরে যেতেন। মাছ ধরে স্থানীয় বাজারে বেচতেন।

ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ শুরু হলে পরিবারটি ভীত হয়ে পড়ে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে তাদের বাড়ির পাশে বিমান হামলা হয়। মাদলিনের বাবাকে হত্যা করা হয়। মাঝে প্রায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মাদলিনকে নিয়ে পরিবার খানইউনিস, রাফা, দেইর এল-বালাহ এবং নুসেইরাতে পালিয়ে যায়।

গাজার অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকারী জাহাজ কর্মসূচির নাম যে তাঁর নামে রাখা হয়েছে, এই খবর আইরিশ অ্যাক্টিভিস্ট বন্ধুর কাছ থেকে প্রথম শোনেন তিনি। তখন কেমন লেগেছিল, জানতে চাইলে হেসে বলেন, ‘আমি আপ্লুত। এক বিশাল দায়িত্ববোধ এবং গর্ব অনুভব করেছি।’

মাদলিন বলেন, ‘আমি এই অ্যাক্টিভিস্টদের কাছে কৃতজ্ঞ। তারা নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। আরামের জীবন ছেড়ে এসেছেন। সব ঝুঁকি নিয়ে গাজার পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

তিনি জানান, ১৫ বছর বয়স থেকে মাছ ধরেন। তখন বাবার নৌকা নিয়ে বের হতেন। মাছ ধরার পাশাপাশি মাদলিন নিপুণ রাঁধুনিও। মৌসুমি মাছের এমন সুস্বাদু পদ তৈরি করতেন, তা চেখে দেখার জন্য ভোজন রসিকরা লাইন ধরে অপেক্ষা করতেন। বিশেষ করে সার্ডিন মাছ দিয়ে তৈরি খাবার ছিল মুখরোচক। এখন তিনি আর মাছ ধরতে পারেন না। রান্না করতেও পারেন না। কারণ ইসরায়েলি বোমা তাদের নৌকা এবং মাছ ধরার সরঞ্জাম ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সব হারিয়েছি– এগুলো ছিল সারাজীবনের শ্রম।’

তাঁর এই ক্ষতি শুধু আর্থিক নয়। এটা তাঁর পরিচিতির সংকটও। সমুদ্র ও মাছ ধরার সঙ্গে তাঁর গভীর সংযোগ ছিল। তিনি বলেন, ‘এখন মাছ অনেক দামি। কয়েকজন জেলের কাছে কিছু সরঞ্জাম আছে। তারা সমুদ্রে নামতে জীবন বাজি রাখছেন। আমরা দুর্ভিক্ষে মাছের জন্য হাহাকার করছি।’