বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
স্পটলাইট

শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আজ

WhatsApp Image 2025-10-06 at 16.50.41_752b806c

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব আজ শুভ ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’। এটি আশ্বিনী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত। যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে খাগড়াছড়িতে প্রবারণা পূর্ণিমা পালন করছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। এ উপলক্ষে সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জেলা সদরের ধর্মপুর আর্যবন বিহার, গোলাবাড়ী আর্য অরণ্য ভাবনা কুঠির, য়ংড বৌদ্ধ বিহারসহ বিভিন্নস্থানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ভিক্ষুদের নিকট পঞ্চশীল গ্রহণের পর বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিকার দান, বর্ষাবাসের চীবরদান, পিণ্ডদান ও স্বধর্ম শ্রবণসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন। এ সময় ফুলপূজা ও বুদ্ধপূজার আয়োজনও করা হয়। এসময় অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করেন।

আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে প্রতি বছর প্রবারণা পূর্ণিমা পালিত হয়। এ সময়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ধ্যান, সাধনা, সমাধি ও প্রজ্ঞা চর্চায় নিয়োজিত থাকেন এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বিহার ত্যাগ করেন না।

প্রবারণা পূর্ণিমার পর থেকেই শুরু হয় মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব, যা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়।

বৌদ্ধদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উৎসব। প্রতিবছর শুভ প্রবারণার মধ্য দিয়ে বিহারে বিহারে দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়, যা চলে মাসজুড়ে।

‘শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান’ উপলক্ষে গত শনিবার বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব বৌদ্ধধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিশ্বে বিরাজমান অস্থিতিশীল অবস্থা দূরীকরণ ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বুদ্ধের শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

এছাড়াও প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশ, মঙ্গলসূত্র পাঠ, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল ও অষ্টাঙ্গ উপসথ শীলগ্রহণ, মহাসংসদান, অতিথি আপ্যায়ন, পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ, আলোচনাসভা, প্রদীপ পূজা, আলোকসজ্জা, বিশ্বশান্তি কামনায় সম্মিলিত বুদ্ধোপাসনা, ফানুস উড্ডয়ন ও বুদ্ধকীর্তনের আয়োজন করা হয়।

বৌদ্ধদের মতে, এই পূর্ণিমা তিথিতে মহামতি গৌতম বুদ্ধ তাবতিংস স্বর্গে মাতৃদেবীকে অভিধর্ম দেশনার পর ভারতের সাংকাশ্য নগরে অবতরণ করেন। মানবজাতির সুখ, শান্তি ও কল্যাণের লক্ষ্যে দিকে দিকে স্বধর্ম প্রচারের জন্য তিনি ভিক্ষু সংঘকে নির্দেশ দেন। একই দিন তাঁর তিন মাসের বর্ষাবাসের পরিসমাপ্তি ঘটে। পূজনীয় ভিক্ষু সংঘের ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত শেষে আসে এ প্রবারণা তিথি। প্রবারণা হলো আত্মশুদ্ধি ও অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের অনুষ্ঠান।

বৌদ্ধ ধর্মীয় লেখক সুদর্শন বড়ুয়া বলেন, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাব্রত শেষে প্রবারণা উৎসবের আয়োজন করা হয় বৌদ্ধ পল্লীতে অর্থাৎ আত্মসমর্পণ ও আত্মশুদ্ধির অনুষ্ঠান হয়। এটি ভিক্ষু সংঘের বিনয়-কর্মের নাম। বুদ্ধের সময়কালে শত শত ভিক্ষু সংঘ একই স্থানে অবস্থান করে ধর্ম ও বিনয় শিক্ষা করতেন। এ উপলক্ষে বৌদ্ধ বিহারগুলোয় ফানুস উত্তোলন করা হয়।