বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
স্পটলাইট

যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

WhatsApp Image 2025-10-03 at 11.15.33_1e410c80

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ এগোচ্ছে। এদিকে ক্রমে অবস্থান হারাচ্ছে প্রধান রপ্তানিকারক দেশ চীন। যদিও অর্থমূল্যের পরিমাণে চীনের রপ্তানি এখনও বাংলাদেশের দ্বিগুণেরও বেশি।

রপ্তানির পরিমাণ ও পণ্যমূল্য, মোট রপ্তানি আয়– সব বিবেচনায় চীনের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে। অন্যদিকে চীন এবং অন্য রপ্তানিকারক প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ফলে আগামীতে চীনা হিস্যা বেশ ভালোভাবেই বাংলাদেশ বুঝে নেবে বলে আশা করছেন রপ্তানিকারক উদ্যোক্তারা।

মার্কিন নতুন শুল্ক কাঠামোয় ১৪৫ শতাংশের মতো চীনা পণ্যের শুল্ক। তবে প্রকৃত শুল্ক কত, তা এখনও জানা যায় নি। বাংলাদেশের ২০ শতাংশ পণ্য পাল্টা শুল্ক। আবার মার্কিন কাঁচামালে উৎপাদিত পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধার মতো বড় শুল্কছাড়ও পাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র । মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের ১৮ থেকে ২০ শতাংশ আসে দেশটি থেকে। 

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) ২০১৫ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এক দশকের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি মূল্যের বিবেচনায় ৪৬ শতাংশ চীনা তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমেছে। এ সময় বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৩৬ শতাংশ। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানির পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৫৪ কোটি ডলার। গত বছর তা নেমে আসে এক হাজার ৬৫১ কোটি ডলারে। অন্যদিকে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫৪০ কোটি ডলার, যা গত বছর ৭৩৪ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। 

পোশাক রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্টের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে চীন ক্রমে দুর্বল হচ্ছে। ২০১৭ সালে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন, সে সময় থেকেই চীন-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক লড়াই শুরু হয়। তখন থেকেই চীনা পোশাকের রপ্তানি কমতে থাকে। আগামীতে আরও কমবে। সেখানে বাংলাদেশ আরও ভালো করবে। তবে আমাদের মূল্য সংযোজিত পণ্যে মনোযোগ বাড়াতে হবে। এখন ভলিউমে বেশি রপ্তানি করেও কম মূল্য পাই আমরা। অন্যদিকে ভিয়েতনাম কিংবা অন্যান্য দেশ কম রপ্তানি করেও বেশি মূল্য পায়। এখন ভলিউমে যে পরিমাণ রপ্তানি করা হয় তাতে যদি মূল্য সংযোজন করা যেত তাহলে একই পরিমাণ রপ্তানি থেকে বড় অঙ্কের রপ্তানি আয় সম্ভব হতো।’ 

অন্যদিকে পরিমাণে গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পোশাকের রপ্তানি কমেছে ১৮ শতাংশেরও বেশি, যেখানে বাংলাদেশের বেড়েছে সাড়ে ৭ শতাংশের মতো। ২০১৫ সালে চীনা পোশাক রপ্তানি হয়েছিল এক হাজার ১৩৮ মিটার। গত বছর তা ৯২৯ মিটারে নেমে আসে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১৮৭ মিটার, যা গত বছর ২৩৭ মিটারে উন্নীত হয়। 

একইভাবে চীনা পণ্যপ্রতি দর বা ইউনিট প্রাইসও কমেছে ৩৪ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের সাড়ে ৭ শতাংশের মতো বেড়েছে। উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দশকের শুরুতে ২০১৫ সালে চীনা পণ্যের গড় ইউনিট প্রাইস ছিল দুই ডলার ৬৮ সেন্ট। তা কমে এক ডলার ৭৮ সেন্টে নেমে আসে ২০২৪ সালে। যেখানে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের পোশাকের ইউনিটপ্রতি গড় দর ছিল দুই ডলার ৮৯ সেন্ট। তা থেকে বেড়ে গত বছর তিন ডলার ১০ সেন্টে উন্নীত হয়।