বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
স্পটলাইট

নারী হ/ত্যা প্রতিরোধে আইন থাকলেও প্রয়োগ দুর্বল

WhatsApp Image 2025-10-01 at 13.51.32_29799cf4

নৃশংসতার চিত্র এখন পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের ঘরে ঘরে, মানুষ এসব পাচ্ছে এখন হাতের মুঠোয়। নৃশংসতার চিত্র ধারণ করে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা দেখে মানুষ আরও বেশি আতঙ্কিত হচ্ছে। সম্প্রতি আর্জেন্টিনায় ১৫ বছরের এক কিশোরী ও ২০ বছর বয়সের দুই তরুণীকে নৃশংসভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। অপরাধীরা সেই নির্যাতনের দৃশ্য ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম গ্রুপে সরাসরি সম্প্রচার করেছিল। যদিও ইনস্টাগ্রামের মূল সংস্থা মেটা প্ল্যাটফর্মে লাইভ স্ট্রিম হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম জানিয়েছে, নির্যাতনকারীরা নিহত তরুণীদের আঙুল কেটে ফেলেছিল, নখ উপড়ে নিয়েছিল এবং তাঁদের পিটিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছিল। অনেকে এই ঘটনাকে নার্কো ফেমিসাইড বলে উল্লেখ করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে গত রোববার হাজারো মানুষ জড়ো হয়েছে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসের রাস্তায়।

ইংল্যান্ডে নারীবিদ্বেষের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠে ১৮০১ সালে। সেখানে প্রথম ফেমিসাইড শব্দটি ব্যবহৃত হয়। তবে গত শতাব্দীর সত্তরের দশক থেকে শব্দটির ব্যবহার সর্বজনীন রূপ পায়। এটি মূলত লিঙ্গভিত্তিক বিদ্বেষমূলক অপরাধ।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৫১ হাজার ১০০ নারী ও কন্যা তাদের অন্তরঙ্গ সঙ্গী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছে। তবে সংখ্যাটি বিশ্বজুড়ে নারী হত্যার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না বলে মনে করা হয়। তবু বেশির ভাগ আইনি ব্যবস্থায় এই হত্যাকাণ্ডকে সাধারণ হত্যা হিসেবে ধরা হয়। এই কারণে নারী হত্যার নির্দিষ্ট আইনি স্বীকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭০ থেকে ১৯৯০-এর দশকের শেষ পর্যন্ত কোনো দেশের আইনে নারী হত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

শুধু বিচারিক সংকট নয় নারী হত্যার হুমকি, এটি একটি গভীর অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক সমস্যা। নারী ও মেয়েদের জীবনে সীমাবদ্ধতা তৈরি করে সহিংসতার ভয়। যা তাঁদের চলাচল, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।

উইমেন, বিজনেস অ্যান্ড দ্য ল সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ২৯টি দেশ নারী হত্যা মোকাবিলার জন্য আইন প্রণয়ন করেছে। এই তথ্য ১৯৭০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বিস্তৃত। তাদের পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত ১৯০টি দেশে বসবাসকারী ৩ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন নারীর মধ্যে আনুমানিক ৪৫০ মিলিয়ন নারী এমন দেশে বাস করেন, যেখানে নারী হত্যার বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা রয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০০ নারীর মধ্যে ১১ জন নারী হত্যার বিরুদ্ধে আইনত সুরক্ষিত। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে হত্যার অপরাধের একটি গুরুতর পরিস্থিতি হিসেবে ভুক্তভোগীর লিঙ্গকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করে দেশগুলো। যার মধ্যে প্রথম স্পেন। তারা ১৯৯৬ সালে এই স্বীকৃতি দেয়। এর প্রায় এক দশক পরে হাতে গোনা কয়েকটি দেশ ধীরে ধীরে অপরাধের লিঙ্গভিত্তিক প্রকৃতি বিবেচনা করে স্পষ্ট সংজ্ঞা এবং শাস্তির মাধ্যমে নারী হত্যাকে আরও ব্যাপক আকারে চিহ্নিত ও অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে শুরু করে।

২০১২ সালে নারী হত্যার ওপর প্রথম স্বতন্ত্র ফেডারেল আইন গ্রহণ করে মেক্সিকো এবং ২০১৪ সালে ইকুয়েডর নতুন গৃহীত দণ্ডবিধিতে নারী হত্যা এবং গুরুতর নারী হত্যাকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। ২০১৩ সালে পেরু প্রথম নারী হত্যাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।

নারী হত্যাকে আইনিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা সাধারণ হত্যার চেয়ে ভিন্নভাবে এই অপরাধের বিচার করতে সাহায্য করে। অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করে, প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং অর্থপূর্ণ ডেটা সংগ্রহে সাহায্য করে এটি, যা শক্ত সামাজিক নীতি তৈরিতে সহায়ক।

সূত্র: বিবিসি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক