বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
নারী

রংতুলিতে ফুটে উঠেছে নদীর কান্না

nodir kanna

বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে ‘নদীর কান্না’ শিরোনামে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), রিভার অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ (আরএসডিবি) এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ। সেখানে ছোট্ট শিশুর হাতের তুলিতে ক্যানভাসে ভেসে উঠছে নদী। কোথাও আঁকা স্বচ্ছ জলের ঢেউ, কোথাও ভেসে উঠেছে দূষিত নদীর হাহাকার। রঙের মধ্য দিয়েই শিশুরা যেন বলে দিচ্ছিল, নদী কাঁদছে– এই নদী বাঁচাতে হবে।

আলোচনার শুরুতেই ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ। তিনি বলেন, নদীরও মন আছে, তাকে কষ্ট দিলে সে কান্না করে। প্রতিদিনের দূষণ, ময়লা ফেলা সেই কষ্টেরই প্রতিচ্ছবি। পরিবার থেকেই প্রতিটা শিশুদের শেখাতে হবে ময়লা যেখানে-সেখানে ফেলা যাবে না।

সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ বলেন, মানববসতির জন্য পানি দূষণ এখন বড় হুমকি। বাংলাদেশকে হাইড্রলিক দেশ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি ফজলে রেজা সুমন বলেন, এক সময় দূষণে নষ্ট হয়েছিল নীলনদ আর টেমস নদী। কিন্তু সেই নদী আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে জনগণের আন্দোলনে। একইভাবে আমাদের আবারও এগিয়ে আসতে হবে।

ডরপের প্রতিষ্ঠাতা এ এইচ এম নোমান বলেন, এক সময় মানুষ নদীর পানি সরাসরি পান করত। এখন বোতল বা ফিল্টার ছাড়া সম্ভব নয়। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাহমুদা পারভিন বলেন, আমরা নদীকে আমাদের মতো করে রাখতে পারিনি। বুয়েটের অধ্যাপক ড. সারা নওরিন বলেন, দেশের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা প্রকাশ করা যায় নদী ও পরিবেশ রক্ষা করে। 

Advertisements

আলোচনা শেষে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্যাটেগরিতে তিনজন ও তিনটি বিভাগে ১৫ জনসহ মোট ১৮ শিশুকে পুরস্কার দেওয়া হয়। রিভার অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল গাজী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নদী দখল ও দূষণমুক্ত রাখার বার্তা পৌঁছে দেওয়া এই আয়োজনের উদ্দেশ্য। 

Advertisements