‘সব হারিয়ে’ মেয়েকে নিয়েই বেঁচে ছিলেন, সড়ক দু/র্ঘটনা কেড়ে নিল দুজনকে

স্বামী হারানোর পর একমাত্র মেয়েকে নিয়েই বেঁচে ছিলেন আবেদিতা চৌধুরী (৪০)। মেয়েকেই আঁকড়ে ধরে ছিল তাঁর সব স্বপ্ন–আশা। কিন্তু শুক্রবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনা সেই স্বপ্ন ছিন্ন করেছে।
সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা এলাকায় অটোরিকশা–ট্রাক সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন আবেদিতা চৌধুরী, তাঁর মেয়ে প্রথমা চৌধুরী (অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী) এবং অটোরিকশা চালক সজল ঘোষ (৫০)।
আবেদিতা চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায়। স্বামী প্রণয় দাসের মৃত্যুর (প্রায় আট বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে) পর তিনি হবিগঞ্জ ছেড়ে সুনামগঞ্জ শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। একমাত্র মেয়ে পড়াশোনা করত সুনামগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে। দুর্গাপূজা সামনে রেখে শুক্রবার সকালে তিনি মেয়েকে নিয়ে হবিগঞ্জের শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে দুর্ঘটনায় তাঁদের জীবন থেমে যায়।
আবেদিতার আত্মীয় পবিত্র দাস বলেন, “সড়কে একটি পরিবার শেষ হয়ে গেল। মেয়েকেই অবলম্বন করে বেঁচে ছিলেন আঁখি (আবেদিতা)।”
সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি গৌরী ভট্টাচার্য জানান, আবেদিতা নিয়মিত তাঁদের পাঠচক্রে যেতেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর আর সংসারও করেননি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বেপরোয়া ট্রাকের কারণে মা–মেয়েসহ তিনজনের মৃত্যু হলো। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কেউ গুরুত্ব দেয় না, তাই দুর্ঘটনা বাড়ছে।”
একই সড়কে সম্প্রতি একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। ১৩ সেপ্টেম্বর জয়কলস এলাকায় প্রাইভেট কার–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে মারা যান জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা সুহেল মিয়া (৩৮) ও সবদর আলী (৩৭)। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় বাস–অটোরিকশা সংঘর্ষে প্রাণ হারান সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্নেহা চক্রবর্তী, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আফসানা খুশি এবং ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম (৭০)।
সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি রবিউল লেইস বলেন, “কিছু কিলোমিটারের মধ্যে এত প্রাণহানি প্রমাণ করে সড়ক কতটা অনিরাপদ। আমরা বারবার মহাসড়কে অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি। অবিলম্বে এই যান চলাচল বন্ধ করতে হবে।”



