বিদ্যালয়ের রাস্তায় নোংরা পানির কারণে খোসপাঁচড়ায় ভুগছে শিক্ষার্থীরা

নাটোরের লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের জোতগৌরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও বারান্দার বাইরে দেড় মাস ধরে জমে আছে বিলের পচা পানি। প্রতিদিন হাঁটুসমান পচা পানি মাড়িয়ে স্কুলে আসতে হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীদের। এ কারণে তাদের অনেকের পায়ে খোসপাঁচড়া ও ঘা দেখা দিয়েছে।
প্রধান শিক্ষক আবু মাসুম জানান, সমস্যার কারণে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিশুদের দুই সপ্তাহ আগে ছুটি দেওয়া হয়েছে। অন্য শ্রেণির অনেক শিক্ষার্থীও স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। ১৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে এখন প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৭০-৮০ জন স্কুলে উপস্থিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অভিভাবকেরা বাচ্চাদের পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।’
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিউলি খাতুন বলেন, তিনি পাঁচ বছর ধরে এখানে কর্মরত। প্রতিবছরই বর্ষাকালে একই অবস্থা হয়। অন্তত তিন মাস পানি জমে থাকে। এতে শিক্ষাদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। তিনি স্কুলে সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান।
শিক্ষার্থীরাও একই অভিযোগ করেছে। চতুর্থ শ্রেণির বর্ষা ও পঞ্চম শ্রেণির সিয়াম জানায়, পচা পানির মধ্যে দিয়ে স্কুলে আসায় তাদের পায়ে চুলকানি ও ঘা হয়েছে। চিকিৎসা নিয়েও উন্নতি হচ্ছে না।
স্থানীয়রা বলেন, বসন্তপুর বিলে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তাই প্রতিবছরই বিদ্যালয়সহ আশপাশের বাড়িঘরে পানি উঠে যায়। তারা বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট বা প্রধান সড়ক সমান করে মাত্র ১০০ ফুট রাস্তা নির্মাণ করলে সমস্যার সমাধান হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা জানান, দুর্গাপূজার ছুটির পর অস্থায়ীভাবে ইটের রাবিশ দিয়ে স্কুলে যাতায়াতের রাস্তা তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এডিপির বরাদ্দ থেকে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাসও পাওয়া গেছে।



