বাহারি সাজে পূজার দিনে

এইবারের পূজায় মায়ের সাজের পরিকল্পনা আপনার হাতে। দুর্গাপূজা মানেই বাড়িতে খুশির রঙ, আলো আর উৎসবের ব্যস্ততা। এই সময়টায় সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করেন আমাদের মায়েরা। ভোগ রান্না থেকে শুরু করে ঘর সাজানো, অতিথি আপ্যায়ন কিংবা নতুন জামা-কাপড় কেনাকাটা সবকিছুতেই মায়ের দায়িত্ব থাকে সবচেয়ে বেশি। তাই পূজার আনন্দের মাঝেই মায়ের জন্য আলাদা করে কিছু ভাবা জরুরি। তাঁর জন্য বিশেষ সাজের পরিকল্পনা করলে তিনি যেমন খুশি হবেন, তেমনি উৎসবটাও হবে আরও সুন্দর। চলুন দেখে নেওয়া যাক, পূজার প্রতিটি দিনে মায়ের জন্য কেমন শাড়ি হতে পারে আদর্শ।
ষষ্ঠীতে সাদামাটা সৌন্দর্য
ষষ্ঠীতে খুব জাঁকজমক শাড়ির প্রয়োজন নেই। সন্ধ্যায় মণ্ডপে ঘুরে আসার মতো হালকা সুতির শাড়িই যথেষ্ট। ঘিয়ে বা হালকা হলুদ রঙের শাড়ির সঙ্গে বাদামি বা কমলা ব্লাউজ দারুণ মানাবে। খোঁপায় গাজরার মালা জড়িয়ে দিলেই হয়ে উঠবে অন্যরকম।
সপ্তমীতে কোমল রঙের ছোঁয়া
আবহাওয়া কখন গরম, কখন বৃষ্টি। এই দোলাচালে মায়ের আরামটাই বড় কথা। তাই সপ্তমীতে পিচ, বেবি পিংক বা ল্যাভেন্ডার শেডের সুতির শাড়ি বেছে নিতে পারেন। এর সঙ্গে সাদা বা অফ হোয়াইট ব্লাউজ হলে পুরো লুক হবে মার্জিত ও আরামদায়ক।

অষ্টমীতে একটু বাড়তি সাজ
অষ্টমীর দিন সাজগোজে একটু জমকালো ভাব চাই-ই। এমব্রয়ডারি করা সুতি শাড়ি বা হালকা কাজ করা কমলা, মেটে বা বাদামি শেডের শাড়ি হতে পারে সেরা পছন্দ। খোঁপায় ফুল আর সামান্য হেয়ারস্টাইল করলে মায়ের লুক হবে একেবারেই উৎসবমুখর।

নবমীতে শীতল রঙের ছোঁয়া
নবমীর জন্য নীলাভ বা বেগুনি শেডের সুতির শাড়ি দারুণ মানানসই। গরমে মণ্ডপ ঘোরা বা পূজার ব্যস্ততার মাঝে এই রঙ যেমন চোখে ঠান্ডা লাগাবে, তেমনি মায়ের মনও করবে ফুরফুরে।

দশমীতে উজ্জ্বলতা
দশমীর সিঁদুর খেলায় মায়ের শাড়ি চাই উজ্জ্বল। তবে শুধু টুকটুকে লাল নয়, বরং একটু ভিন্নতা আনা যায়। লালের সঙ্গে উষ্ণ টোনের ব্লক বা নকশিকাঁথার কাজ করা শাড়ি হলে মায়ের সাজ হয়ে উঠবে জমকালো, আবার আরামদায়কও। মাথায় আটপৌরে খোঁপা আর ফুলের মালা। এটাই হবে সেরা শেষ দিনের লুক।

পূজার দিনে মায়ের জন্য শাড়ি বাছাইয়ের সময় শুধু রঙের ট্রেন্ড নয়, তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য ও রুচিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এভাবে প্রতিটি দিনকে আলাদা সাজে সাজাতে পারলে মা হবেন খুশি। আর আপনার উৎসব হবে সত্যিকারের পূর্ণ।



