বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
জীবনযাপন

পুজোর আগাম প্রস্তুতি

13-SM786361

 সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ও বহুল প্রতীক্ষিত উৎসব দুর্গাপূজা। শরতের নীল আকাশ, পেঁজা তুলোর মতো মেঘ, বাতাসে ভেসে আসা শিউলি ফুলের মৃদু গন্ধ আর চারপাশে আগমনী গানের সুর যেন জানান দেয় মা আসছেন। দূর থেকে ভেসে আসে ঢাকের আওয়াজ মন ছুঁয়ে যায় এক অপার্থিব আনন্দ। পূজা মানেই নতুন পোশাক, আলোকসজ্জায় মোড়া মণ্ডপে গিয়ে ঠাকুর দর্শন, প্রিয়জনদের সঙ্গে নির্ভার আড্ডা আর আনন্দে ভরপুর দিনগুলি। এই আনন্দকে আরও গভীর, আরও স্মরণীয় করে তুলতে দরকার একটু পরিকল্পনা, একটু যত্ন। কীভাবে পূজার প্রতিটি মুহূর্তকে করে তোলা যায় আরও রঙিন ও সাজানো তাই নিয়ে রইল কিছু সহজ টিপস-

কেনাকাটা  হোক আগেভাগে

দুর্গাপূজার অন্যতম আনন্দের দিক হলো নতুন পোশাক, গয়না ও সাজসজ্জা। তবে শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা করতে গেলে শুধু দামই বেশি পড়ে না, পছন্দের জিনিস খুঁজে পাওয়া কিংবা ভিড় এড়িয়ে কেনাকাটা করাও বেশ ঝামেলার হয়ে দাঁড়ায়। তাই পূজার অন্তত এক মাস আগে থেকেই কেনাকাটা শুরু করে দিন। এতে সময়মতো সবকিছু বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে এবং কেনাকাটাও হয় অনেক বেশি আরামদায়ক। এই সময়টায় অনেক অনলাইন ও অফলাইন স্টোরে পূজা উপলক্ষে বিশেষ ছাড় ও অফার চলে, যা আগেভাগে কেনাকাটার আরেকটি বড় সুবিধা। চেষ্টা করুন আরামদায়ক ও ট্রেন্ডি পোশাক বেছে নিতে। সেইসঙ্গে গয়না, ব্যাগ, জুতো ও অন্যান্য সাজসজ্জার জিনিসও তালিকা করে আগেই কিনে রাখুন। এতে পূজোর কদিনে আপনার শুধু সাজগোজ আর আনন্দের দিকেই মনোযোগ থাকবে। 

গুছিয়ে বাজার সদাই করুন

দুর্গাপূজার সময় পরিবারে অনেক ধরনের রান্নার আয়োজন করা হয়। বাজারে প্রয়োজনীয় উপকরণ না পাওয়ার ঝামেলা এড়াতে আগে থেকে বাজার সদাই গুছিয়ে করা বুদ্ধিমানের কাজ। একটি তালিকা তৈরি করুন। পূজার এক সপ্তাহ আগে শুকনো পণ্য যেমন চাল, ডাল, মশলা কিনে ফেলুন। পচনশীল জিনিস যেমন সবজি, মাছ, মাংস কিনুন পুজার দিনগুলোর আগে।পানীয়, মিষ্টি, ফল, ফুল, মোমবাতি, ধূপকাঠি এবং অন্যান্য ডেকরেটিভ আইটেম আগে থেকেই কিনে রাখুন। ঘরকে সজীব ও পবিত্র রাখতে এবং সাজসজ্জার প্রতি মনোযোগ দিন।

ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা

Advertisements

দুর্গাপূজা মানেই বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন ।পূজার প্রথম দুই বা শেষ দুই দিন ভিড় বেশি থাকে, তাই মাঝের দিনগুলিতে প্রতিমা দর্শনের চেষ্টা করুন। সকালে বা বিকালের দিকে গেলে ভিড় তুলনামূলক কম পাওয়া যায়। এছাড়া অনেকেই পূজার ছুটিতে কাছাকাছি কোনো জায়গায় ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে দূরে ঘুরতে গেলে আগে থেকে হোটেল বা রিসোর্ট বুকিং নিশ্চিত করে নিন। এই সময়টিকে আরো আনন্দময় করতে কোন কোন প্যান্ডেলে যাবেন তার একটি রুট ঠিক করুন। নিজস্ব গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন পরিষেবা নেওয়া ভালো। বিশেষ করে যেখানে পার্কিং সমস্যা হতে পারে। এক্ষেত্রে মেট্রে ব্যবহার করলে যানজট এড়িয়ে চলা সম্ভব। পরিবারের জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ করুন। 

বিশেষ মুহূর্ত ধরে রাখুন

দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি আনন্দ ও মিলনমেলার এক অনন্য উৎসব। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তকে ছবি কিংবা ভিডিওতে বন্দি করে রাখতে পারেন। চাইলে তৈরি করতে পারেন একটি ফটো অ্যালবাম বা ভিডিও ডায়েরি। এতে পূজার স্মৃতিগুলো শুধু আজকের নয়, আগামী দিনেও আপনাকে সমান আনন্দ দেবে, আর প্রতি বছর সেই স্মৃতিই হয়ে উঠবে নতুন করে উৎসবের অংশ।

নিজের ঘরের পূজার পরিকল্পনা

অনেকেই দুর্গাপূজার সময় বাড়িতে ছোটখাটো পূজার আয়োজন করে থাকেন। এক্ষেত্রে ঘরে পূজার আয়োজনের সামগ্রী প্রস্তুত করুন। দুর্গাপূজার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী যেমন মাটির প্রতিমা, ফুল, ধূপ, বাতাসা, নৈবেদ্য, পান-সুপারি আগেভাগে সংগ্রহ করে রাখুন ।ঘর পরিষ্কার করুন এবং মণ্ডপ তৈরি করুন। পারিবারিক দায়িত্ব ভাগাভাগি করুন। এতে প্রত্যেকেই পূজার কাজে অংশ নিতে পারবে এবং আনন্দের অংশীদার হবে।

দুর্গাপূজা শুধু আধ্যাত্মিক উৎসব নয়, এটি পারিবারিক মেলবন্ধনের একটি সময়। পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটানোর মাধ্যমে সম্পর্কগুলিকে নতুনভাবে উদযাপন করা যায়। একসাথে খাওয়াদাওয়া, প্রতিমাদর্শন, ছবি তোলার পরিকল্পনা করতে পারেন । বন্ধুদের সাথেও পূজার আগে বা পরে একটি আড্ডার আয়োজন করতে পারেন। যেখানে সবাই একসাথে বসে পুরনো স্মৃতিচারণ করতে পারবেন। এছাড়া বৃদ্ধ সদস্যদের খেয়াল রাখুন। তাদের একাকী রেখে দেওয়া উচিত নয়। তাঁদের সাথে কিছু সময় কাটিয়ে দিন। তাঁরা যাতে আপনার সাথে উৎসবের আনন্দ ভাগ করতে পারেন।

Advertisements