দ্বিতীয়বার আগা খান পুরস্কার পেলেন মেরিনা তাবাশ্যুম

বাংলাদেশের খ্যাতিমান স্থপতি মেরিনা তাবাশ্যুম, দ্বিতীয়বারের মত ‘আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার’ গ্রহণ করলেন। তাঁর নকশা করা ‘খুদি বাড়ি’ প্রকল্পের জন্য তিনি আবারও মনোনীত হয়েছেন। মেরিনা তাবাশ্যুমই প্রথম বাংলাদেশি স্থপতি যিনি একাধিকবার এই মর্যাদাপূর্ণ স্থাপত্য পুরস্কার জিতেছেন।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিরগিজিস্তানের বিশকেক শহরে সোমবার এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর আবাসন সমস্যার টেকসই সমাধান হিসেবে এই প্রকল্পের অভিনব ও কার্যকর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। পুরস্কারের আর্থিক মূল্যমান এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিজয়ীদের মধ্যে ভাগ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ঢাকার বায়তুর রউফ মসজিদ নকশার জন্য মেরিনা তাবাশ্যুম প্রথমবার আগা খান অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছিলেন। সেটি ছিল বাংলাদেশের স্থাপত্যকে বিশ্বপরিমণ্ডলে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়ার মাইলফলক। এবারের স্বীকৃতি সেই ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
টোকতোগুল সাতিলগানোভ কিরগিজ ন্যাশনাল ফিলহারমোনিকে এবারের ১৬তম আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে উজবেকিস্তান ও কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন।
আগা খান পুরস্কার এমন স্থাপত্য ধারণাকে স্বীকৃতি দেয় যা মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চাহিদা পূরণ করে এবং আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ করে। ১৯৭৭ সালে প্রয়াত আগা খান চতুর্থ প্রিন্স করিম আগা খান এই পুরস্কার প্রবর্তন করেন। পুরস্কারটি বহুত্ববাদ, সামাজিক পরিবর্তন, সাংস্কৃতিক সংলাপ ও জলবায়ু-সচেতন নকশার অনুঘটক হিসেবে কাজ করা স্থাপত্যকে প্রাধান্য দেয়।
মেরিনা তাবাশ্যুম বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারপারসন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের প্রধান পরামর্শক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছেন। এছাড়াও ২০১৬ সালে ঢাকার বায়তুর রউফ মসজিদ নকশার জন্য আগা খান অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। এবং ২০০৪ সালে অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা ও ২০২১ সালে মানবিক ঘর তৈরির জন্য যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ সন পদক পান খ্যাতিমান এই স্থপতি।



