বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
স্পটলাইট

যৌ/নকর্মে যুক্ত নারীদের বড় অংশই শিশু বয়সে প্রবেশ করেন

7d13dbeb72764b61126ca3781e19766a (1)

দেশের যৌনকর্মীদের মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশই শিশু বয়সে এই পেশায় প্রবেশ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের মধ্যে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী মেয়েদের মধ্যে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ যৌনকর্মে যুক্ত হয়। অন্যদিকে, ৩৮ শতাংশ নারী ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সে এবং ১০ শতাংশ নারী ২২ থেকে ২৫ বছর বয়সে এই পেশায় আসেন। বেশিরভাগ নারী সুযোগ পেলে এ পেশা থেকে বেরিয়ে আসার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন।

‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ কর্তৃক পরিচালিত এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে ‘ইউএন উইমেন’-এর সহায়তায়। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে আয়োজিত ‘যৌনকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। আয়োজনে অংশ নেয় ‘সমকাল’, ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ ও ‘ইউএন উইমেন’।

অপরাজেয় বাংলাদেশের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ফারজানা বাশার জানান, গত এক বছরে জামালপুরের একটি যৌনপল্লীর ২০০ জন যৌনকর্মী ও ৫০ জন অংশীজনকে নিয়ে এই গবেষণা চালানো হয়। এর ফলাফলে উঠে এসেছে, অংশগ্রহণকারী ২০০ জন যৌনকর্মীর মধ্যে ১২৯ জন বিবাহিত, ৩৭ জন তালাকপ্রাপ্ত এবং ৩১ জন অবিবাহিত। আয় নিয়ে বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৯ শতাংশ মাসে পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা উপার্জন করেন। ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে আয় করেন ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা উপার্জন করেন প্রায় ১২ শতাংশ যৌনকর্মী।

স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়েও গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। দেখা যায়, ৮০ শতাংশ যৌনকর্মী নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পান না এবং ৯০ শতাংশ শৈশবেই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের কারো কাছেই সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পৌঁছায়নি। তাদের প্রধান চাহিদার মধ্যে ৯৫ শতাংশ জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ৮০ শতাংশ সন্তানের শিক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন অপরাজেয় বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ফারজানা বাশার। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (এমসিএইচ-সার্ভিসেস ইউনিট) ডা. মো. সুলতান আহম্মদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহমুদুল হাসান, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য ডা. হালিদা হালুম আখতার, সিডব্লিউসিএস সভাপতি অধ্যাপক ইশরাত শামীম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার এন্ড উইমেন স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক তানিয়া হক ও প্রাগ্রসরের নির্বাহী পরিচালক ফওজিয়া খন্দকার ইভা প্রমুখ।