ভারতে ইলিশ রপ্তানি সৌজন্যের ভিত্তিতে, চাপের কারণে নয়: ফরিদা আখতার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়েছেন, কোনো ধরনের চাপের কারণে নয়; ধর্মীয় সৌজন্য ও অনুরোধের ভিত্তিতেই ভারতে ইলিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বছর ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। একই সঙ্গে প্রবাসীদের চাহিদা অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ১১ হাজার টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন তিনি। এর আগে জেলা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ, বেসরকারি সংগঠন, নারী কৃষক ও স্থানীয় এনজিও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন উপদেষ্টা।
গত বছরের তুলনায় এ বছর রপ্তানি কমেছে উল্লেখ করে ফরিদা আখতার বলেন, গত বছর ভারতে ৩ হাজার টন ইলিশ পাঠানো হয়েছিল, আর এবার অনুমতি দেওয়া হয়েছে মাত্র ১ হাজার ২০০ টন। তাই রপ্তানির সঙ্গে কোনো চাপের বিষয় নেই; বরং ধর্মীয় সম্প্রীতির জায়গা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে জাটকা নিধনের কারণে ইলিশ উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ কমেছে এবং দাম বেড়েছে। জুলাইয়ে গত বছরের তুলনায় ৩৭ শতাংশ এবং আগস্টে ৪৭ শতাংশ কম ইলিশ ধরা পড়েছে। তবে শিগগিরই দেশের বিভিন্ন স্থানে সাশ্রয়ী মূল্যে ইলিশ বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মৎস্য খাতে প্রণোদনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ফরিদা আখতার বলেন, কৃষি খাতে যেমন প্রণোদনা আছে, মৎস্য খাতে তা প্রায় নেই বললেই চলে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। একই সঙ্গে গবাদিপশুকে এলএসডি (লাম্পি স্কিন ডিজিজ) মুক্ত করতে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, মানিকগঞ্জসহ চার জেলায় সম্পূর্ণ টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আলোচনা সভায় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ, সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোক্তাদির খান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ রানা উপস্থিত ছিলেন।



