অলিম্পিকে স্বর্ণপদকজয়ী সাঁতারুকে কেন টানা এক বছর আইসক্রিম খাইয়েছেন মা

স্ট্যানফোর্ডের ক্যাম্পাসে সমাবর্তনের দিন, ১৫ জুন, উপস্থিত ছিলেন কেটি লেডেকি। ১৪টি অলিম্পিক মেডেল জয়ী মার্কিন এই সাঁতারু ছিলেন সমাবর্তনের মূল বক্তা। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি শেয়ার করলেন তার শৈশব ও সাফল্যের গল্প, যা শোনার পর মনে হয়, কঠোর পরিশ্রমের সঙ্গে কখনো ছোটো আনন্দকেও অবহেলা করা উচিত নয়।
“আমি সত্যিই ভাগ্যবান যে আমার বাবা আমাকে ছোটবেলা থেকেই ভোর চারটায় জাগিয়ে সাঁতারের অনুশীলনে নিয়ে যেতেন। তিনি জানতেন, আমি শুধু সাঁতার ভালোবাসি না, অঙ্কেও আগ্রহী। বাবাই আমাকে শিখিয়েছিলেন, ১ সেকেন্ডের ১০০ ভাগের ১ ভাগও প্রতিযোগিতার ফল বদলে দিতে পারে। স্টপওয়াচ হাতে ধরে সেই ক্ষুদ্রতম সময়ের গুরুত্ব বুঝতে শিখিয়েছিলাম,” লেডেকি স্মৃতিমাধুর্যে বললেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সতর্ক করলেন—জীবনে অনেকেই বলবে ধীরে চলতে, তাড়াহুড়া না করতে। কিন্তু সেই সতর্কতা সবসময় সঠিক নাও হতে পারে। “একবার দ্রুত শুরু করলে তুমি যতটা ভেবেছিলে, তার চেয়েও অনেক দূরে যেতে পারবে। নিজের কথাও শোনো। নেতৃত্ব নিতে ভয় পেও না। কখনো ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে এবং আবিষ্কার করতে হবে তুমি সত্যিই কতটা পারো,” যোগ করলেন তিনি।
লেডেকি তখন ১৫ বছর বয়সে প্রথম অলিম্পিকে স্বর্ণ জিতেছিলেন। হাইস্কুল শেষ হওয়ার পর প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন, এবং লন্ডনের অলিম্পিকে ব্রিটিশ চ্যাম্পিয়ন বেকি অ্যাডলিংটনের বিপক্ষে সাঁতরে জয়লাভ করেন। রেস চলাকালীন ধারাভাষ্যকারদের পরামর্শে গতি কমানো উচিত মনে হলেও তিনি নিজের ছন্দেই এগিয়ে গেছেন। শেষ পর্যন্ত চার সেকেন্ডের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়।
মজার এবং মানবিক দিকটি হলো, তার মা কেটিকে প্রায় এক বছর ধরে চকলেট আইসক্রিম খাইয়েছেন। “লো-ফ্যাট চকলেট দই পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই দইয়ের বদলে চকলেট আইসক্রিম খাইয়েছি। হয়তো এ কারণেই কেটি সকালবেলা অনুশীলনে এত উৎসাহ নিয়ে উঠত!” – মা বলতেন।
লেডেকি জানালেন, অলিম্পিকে জয়ের কোনো ‘গোপন সূত্র’ নেই। আসল রহস্য হলো লক্ষ্য স্থির রাখা, কিন্তু জয় শুধুমাত্র নিজের সঙ্গে তুলনা করা। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত জয় আসলে নিজের প্রক্রিয়াকে ভালোবেসে নেওয়ার মধ্যেই নিহিত।
“লক্ষ্য সবসময় নিজের পারফরম্যান্স, সময় এবং প্রক্রিয়া। মঞ্চ নয়, প্রক্রিয়াকে ভালোবাসো। নিজের দৌড় জেতা মানে হলো তুমি নিজের সেরা সংস্করণকে অতিক্রম করেছ।”
লেডেকির এই গল্প শুধু একটি অলিম্পিক জয় নয়, বরং অধ্যবসায়, পারিবারিক সমর্থন এবং ছোট আনন্দের মাধ্যমে বড় লক্ষ্য অর্জনের এক অনুপ্রেরণামূলক পাঠ।



