বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
নারী

মানবী চেহারার এআই মন্ত্রী ডিয়েলা

albania-pm-rama-and-ai-generated-minister-diella

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ আলবেনিয়ায় দুর্নীতি দমনে বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার এ ঘোষণা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী এডি রামা।

মন্ত্রীটির নাম ডিয়েলা, আলবেনীয় ভাষায় যার অর্থ ‘সূর্য’। প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারি ক্রয় ও দরপত্র ব্যবস্থায় ডিয়েলা স্বচ্ছতা আনবে এবং শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।

আলবেনিয়ায় দুর্নীতি চিত্র

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দুর্নীতির সূচকে আলবেনিয়ার অবস্থান ছিল ৮০তম। পশ্চিম বলকান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ঘুষ ও দুর্নীতির হার সবচেয়ে বেশি এখানেই। এক জরিপে বলা হয়, দেশটির ৪০ শতাংশ ঘুষ লেনদেনে জড়িত, সরকারি কর্মকর্তাদের অর্ধেকের বেশি নাগরিকদের কাছ থেকে ঘুষ দাবি করেন। প্রায় ২৭ লাখ জনসংখ্যার দেশটির ৮০ শতাংশ মানুষ ঘুষ দিতে বা নিতে প্রলুব্ধ হয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের স্বপ্ন দেখছে আলবেনিয়া। কিন্তু দুর্নীতির কারণে এ পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। এ কারণেই রামা সরকার চতুর্থ মেয়াদে এসে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

ডিয়েলার কার্যপ্রণালী

সরকারি দরপত্রের নথি ডিয়েলার সিস্টেমে আপলোড করা হবে। এরপর অ্যালগরিদমের মাধ্যমে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা ও পূর্ববর্তী কাজের রেকর্ড যাচাই করবে এটি। ইইউ ও আলবেনিয়ার আইন অনুযায়ী তথ্য মিলিয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়লে সতর্ক সংকেত দেবে।

যেখানে সাধারণত দরপত্র নিষ্পত্তি করতে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ লাগে, সেখানে ডিয়েলা তা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করতে পারবে। চলতি ডিসেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে অন্তত ১০০টি টেন্ডার প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে এআই মন্ত্রী।

সুবিধা ও বিতর্ক

সরকারের দাবি, ডিয়েলা পক্ষপাতমুক্তভাবে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। এতে সময় ও খরচ বাঁচবে এবং দুর্নীতির সুযোগ কমবে। তবে বিরোধীদের মতে, সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রী হওয়ার জন্য মানসিক সক্ষমতা প্রয়োজন—যা এআইয়ের নেই। ফলে বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

এ ছাড়া অ্যালগরিদমে পক্ষপাত, হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে মানুষের প্রভাবের সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ চাকরির নিরাপত্তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আলবেনিয়ার এ উদ্যোগকে অনেকে এআই গভর্নেন্সে এক মাইলফলক বলছেন। সফল হলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ দুর্নীতি দমনে মডেলটি অনুসরণ করতে পারে। তবে ব্যর্থ হলে এটি নতুন জটিলতার জন্ম দিতে পারে।

একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “চুরি চলতেই থাকবে, এখন শুধু দোষ চাপানো হবে এআইয়ের ওপর।”