বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
স্পটলাইট

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রভাব পড়তে পারে রাজনীতিতে

uttap

গত ৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবং গত ১১ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপরই অনুষ্ঠিত হবে রাকসু ও চাকসু নির্বাচন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও ইতোমধ্যে এ লক্ষ্যে এগোচ্ছে। অন্যদিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছেন। আবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের বিধিবিধান তৈরি করার পর সেখানে নির্বাচন হবে বলে সেখানকার প্রশাসন জানিয়েছে।

ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে একটি নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী সংসদের এই নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়সহ জাতীয় রাজনীতির নানা ধরনের সমীকরণ যুক্ত হবে। 

শিক্ষার্থী সংসদগুলোতে বিভিন্ন দল যেমন-  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল, জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির, জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী গড়ে ওঠা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) নেতাকর্মীরা ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। এই নির্বাচনে প্রগতিশীল-বাম শিক্ষার্থী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া অপরাপর শিক্ষার্থীও বিভিন্ন প্যানেলভুক্ত বা স্বতন্ত্র অবস্থানে থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

৫ই আগস্টের পর অর্থাৎ আওয়ামী সরকার পতনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য নির্ধারণ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের কাছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি জানায় জামায়াত, নবগঠিত এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। কিন্ত বিএনপি এর বিরোধিতা করে। ফলে সরকার স্থানীয় নির্বাচন দেননি।

এর আগে বিএনপি-জামায়াতের ঐক্য পরিলক্ষিত হলেও বর্তমানে এ দুটি দলের মধ্যে ভিন্ন সুর দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বাধীন শিক্ষার্থীদের দ্বারা গড়ে ওঠা এনসিপির যাত্রার শুরু থেকেই রাজনৈতিক ইস্যুগুলোতে বিএনপির সঙ্গে মতানৈক্য চলছে। জামায়াত এবং অন্য ইসলামপন্থি দলগুলো দুই কক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ এবং প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক হারে আসন বণ্টন (পিআর) করার দাবি জানিয়েছে।  

সরকার গঠিত সংস্কার কমিশনে বিভিন্ন সংস্কারে কিছু কিছু রাজনৈতিক দল অভিন্ন মত পোষণ করেছে। ফলে সেসব বিষয় জামায়াত ও এনসিপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন বাংলাদেশে নতুন বন্দোবস্ত হিসেবে ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল করে গণপরিষদ নির্বাচন দাবি করছে। বর্তমানে রাজনৈতিক ময়দানে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে জামায়াত ও এনসিপি একাত্মতা প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে পিআর পদ্ধতির নির্বাচনে বিএনপি বিরোধিতা করছে। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে থাকলেও সব রাজনৈতিক দল এক না হওয়ার কারণে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।


তবে ধারণা করা হচ্ছে শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনগুলো এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান বুঝতে পারত এবং সে অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুতি নিতে পারত। ধারণা করা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ফলে এই সুযোগটি এখন সামনে এসেছে।

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের জয় লাভ আবার জাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে। ফলে শিক্ষার্থী সংসদের নির্বাচনী ফলাফলের উত্তাপ ছড়াবে জাতীয় রাজনীতিতে এমনটাই মনে করছেন অনেকে।

Advertisements