বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
নারী

বর্জন, অভিযোগ ও অনাস্থায় শেষ জাকসুর ভোটগ্রহণ

IMG-20250911-WA0015

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ কিছু বিশৃঙ্খলা ও অভিযোগের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। মূলত কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে সর্বাধিক ভোটার অংশগ্রহণ (৯৯১ জন) লক্ষ্য করা গেছে। ভোটগ্রহণ বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কিছু কেন্দ্রে তা রাত ৮টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলেছে।

নির্বাচনের শেষ দিকে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। একই সময়ে ছাত্র ইউনিয়ন সমর্থিত ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেলও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনাস্থা প্রকাশ করে। অন্যদিকে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল নির্বাচনে অসংগতির অভিযোগ তুলে ভোট গ্রহণে সমস্যার কথা জানায়।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে। তবে কয়েকটি কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন থাকায় ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানো হয়। কবি নজরুল ইসলাম হলে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটেও ভোট পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায় ছাত্রদলের প্রার্থী আবিদুর রহমানকে।

নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার বলেন, “ভোট গ্রহণে দেরি হওয়ার বিষয়ে আমরা এখনও কোনো তথ্য পাইনি। কেন্দ্রীয় রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি।”

ভোট বর্জনের ঘোষণা: কারচুপি ও প্রহসনের অভিযোগ

ছাত্রদল সমর্থিত জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসেন বৈশাখী বেলা সাড়ে ৩টায় মওলানা ভাসানী হলে এক সংবাদ সম্মেলনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, “তাজউদ্দীন হলে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি, ভোটারদের ছবি তালিকায় নেই, ২১ নম্বর হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। জাহানারা ইমাম হলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর হাত তোলা হয়েছে। আমরা চাইনি ওএমআর মেশিন, তবু ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যালটে ভোট হয়েছে। মেয়েদের হলে একই মেয়ে বারবার ভোট দিয়েছে। এটি কারচুপি ও প্রহসনের নির্বাচন।”

‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেলের অনাস্থা

ছাত্র ইউনিয়ন সমর্থিত ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী স্মরণ এহসান লিখিত বক্তব্যে বলেন, “নির্বাচন যথাযথ প্রক্রিয়ায় হচ্ছে না। আমরা এই নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করছি। সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে নানা অনিয়ম চলছে। আমাদের ভিপি প্রার্থী অমর্ত রায়ের প্রার্থিতা জোরপূর্বক বাতিল করা হয়েছে। কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ ও অন্যান্য নিয়মিত প্রস্তুতি মেনে চলা হয়নি।”

সহকারী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারিয়া জামান নিকি জানান, “কিছু হলে পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে, একাধিক নিয়ম-কানুন একে অপরের সাথে মিলছে না। কয়েকটি হলে ছবি লাগাতে বাধ্য করা হয়েছে, আবার অন্যকিছু হলে বাধা আরোপ করা হয়েছে।”

‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের অসংগতি অভিযোগ

ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের সহ-সভাপতি আরিফুল্লাহ আদিব অভিযোগ করেন, “নির্বাচনে বিভিন্ন অসংগতি দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনের যথাযথ প্রস্তুতি নেই। পোলিং এজেন্ট নিয়োগে রাতের মিটিং হয়েছে, সকালে পাঠালে দায়িত্বরতরা জানে না। ছাত্রদলের সাবেক সদস্যরা কেন্দ্রে উপস্থিত থাকছেন, যা নিয়মের বিরুদ্ধ।”

প্যানেলের জিএস প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ছাত্রদলের ভোট বর্জনের পরও আমরা ঐক্যের ডাক দিতে চাই। শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছে, প্রশাসনের প্রযুক্তিগত ভুল বড় আকারে হওয়া থেকে শিক্ষার্থীরা রোধ করেছে। ভোটে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও সমর্থনই গুরুত্বপূর্ণ।”

Advertisements