ডাকসুতে নেতৃত্বে আসন পেলেন সাত নারী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বিভিন্ন পদে নারীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে নারীরা মোট ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এবং ৭জন নারী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ১২টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে নারী প্রার্থীরা জিতেছেন ৩টি পদ এবং ১৩টি সদস্য পদের মধ্যে জিতেছেন ৪টি পদে।
ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন এবং মোট ২৯ হাজার ৮২১ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে ১২ হাজার ৪৫৩ জন নারী শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন। ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ৬২ জন নারী প্রার্থী ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ১০৫।
এ ছাড়া হল সংসদ নির্বাচনে পাঁচ ছাত্রী হল সংসদে ৬৫টি পদে প্রার্থী ছিলেন ১৮৫ জন নারী। ডাকসু ও হল সংসদ মিলিয়ে জয়ী হয়েছেন ৭২ জন নারী।
মঙ্গলবার (৯সেপ্টেম্বর) ডাকসুতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং গতকাল বুধবার সকালে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ডাকসুর মোট ২৮টি পদের ২৩টিতেই জিতেছে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট। সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস)—শীর্ষ এই তিন পদেই জিতেছে শিবিরের প্যানেল ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট। এই তিন পদে নারীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি।
সম্পাদকীয় পদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন সানজিদা আহমেদ তন্বি। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১১ হাজার ৭৭৮। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে শিবিরের প্যানেলের প্রার্থী ফাতেমা তাসনিম জুমা ১০ হাজার ৬৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ হাজার ৯২০ ভোট পেয়ে শিবিরের প্যানেলের প্রার্থী উম্মে ছালমা জয়ী হয়েছেন।
এছাড়াও সদস্য পদে মোট ৪জন নারী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। তাঁরা হলেন শিবির প্যানেলের সাবিকুন নাহার তামান্না, তাঁর মোট ভোট ১০ হাজার ৮৪ ভোট ও মোছা. আফসানা আক্তার, তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৫ হাজার ৭৪৭ ভোট, প্রতিরোধ পর্ষদের হেমা চাকমার প্রাপ্ত ভোট ৪ হাজার ৯০৮ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৪ হাজার ২০৯ ভোট।
নির্বাচনে গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে জয়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আলোচিত সেই সানজিদা আহমেদ তন্বি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি গতকাল ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ভোটারদের আস্থার মর্যাদা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
ছবি: প্রথম আলো



