শিমুল সালাহ্উদ্দিনের কবিতা

নৈমিত্তিক—————-
প্রাণটা কেবল
আদর পেতে
ওষ্ঠাগত
ওষ্ঠ তোমার
কোন সুদূরে
কোথায় নত!
এসব আমার
ভাবতেও আর
ভাল্লাগেনা
তুমি আমার
স্বপ্নে পাওয়া
যৌনসেনা
এসো আমার
দিল খুলে নাও
অন্ধকারে
ডুব মেরে যাও
রক্তনালী
ঝণৎকারে
বুঝবে তুমি
সেখানটাতে
একটা তুমি বসে
আমি হয়ে
তোমার অঙ্ক
কষছো কষে কষে।
বিভূতি——-
তমসাচ্ছন্ন আকাশে এক আগুনরঙা ফানুশের মতো
তোমাকে দেখে উজ্জ্বল হয়ে
উঠেছিলো আমার তামাটে পোড়া মুখ—
আগ্রহী চোখের মণি বেরিয়ে আসার আগেই
আমি
দৌঁড়াতে শুরু করেছিলাম—
কিছু না কিচ্ছু না ভেবেই অজান্তে তোমার দিকে—
সিঁড়ির পর
সিঁড়ি ছাদের পর ছাদ সড়কের পর সড়ক—
আমি লাফিয়ে লাফিয়ে উড়ে উড়ে ধাওয়া
করছিলাম তোমার পিছু—
তুমি জ্বলে যাচ্ছো পুড়ে যাচ্ছো
আগুনে আগুনে উড়ে যাচ্ছো
দূরে—
আর ক্রমশ হচ্ছো তুমি ছোট থেকে ক্ষুদ্র—
ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর—
জীবন অঙ্গার করে হাঁটু ছিলে
মাংস থেঁতলে আছাড়ের পর পিছাড় পেরিয়ে
আমি হাওয়ায় ভাসিয়ে
দিয়ে নিজের দেহ—
ধরেছি
তোমাকে নিগূঢ় ভস্মে, অবশেষে…
ভুবনে এরই নাম নাকি তোমরা রেখেছো বিভূতিমিলন!
পাতার মর্মরে লেখা—————
চুপ হতে হতে আমি এখানে এসেছি
লোকালয় ছেড়ে এই
গভীর অরণ্যে
এখানে গাছেরা আড়াল করেছে দিগন্ত ও আকাশ—
বৃষ্টিরা যখন কান্ড বেয়ে নামে ভূমিতলে
কর্দম পায়ের পাতা ডুবিয়ে নেয় মরমে
বুঝে নেই, একটু আগেও ছিলো আকাশ
ভারানত মেঘদৈত্যে; এবার হবে ফকফকে
চুপ হতে হতে আমি এসেছি আঁধারে
চুপ হয়ে গেলে তুমি দেখবে নিকষ
অন্ধকারও আলোর মতো সুন্দর,
ওঙ্কারের মতো ব্রীড়াময়, পাতার ওপর
টুপটাপ পড়ন্ত বৃষ্টির মতো সাংঘাতিক সুরেলা
একাকীত্বের মতো নিরালা
নগ্নতার মতো ঝঞ্ঝাটহীন
ভাবকল্পরোষ-যুক্তিহীনতার মতো নির্দোষ
চুপ হও, নিজের অরণ্যে চলো
মানুষের ভয় তুমি, কখনো পাবে না
এমনকী ভুবনের সমস্ত শিশু
জেনে গেছে মানুষ আদতে, পশু
পাশব পয়দা করে এবং
ছেড়ে দেয় অসভ্যতার জন-অরণ্যে
একা হবে, একার হওয়ার সামর্থ্য অর্জন করবে বলে!


