বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অহনার কৃতিত্ব, অক্সফোর্ডে পেলেন মাস্টার্স ছাড়াই পিএইচডি’র সুযোগ

সাধারণত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি–ফিল (তাদের পিএইচডি ডিগ্রির নাম) করার জন্য শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স ডিগ্রির প্রয়োজন পড়ে। বিশেষ করে অনেককে বাধ্যতামূলকভাবে এমফিল বা এমএসসি গবেষণা করতে হয়। তবে সরাসরি মাস্টার্স না করে স্নাতক থেকে পিএইচডি (ডি–ফিল) এ ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে মেধাবী শিক্ষার্থীদের। মাস্টার্স করার আগেই বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল সায়েন্সে ডি-ফিল (পিএইচডি) করার জন্য ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশী শিক্ষার্থী শুচিস্মিতা মৈত্র অহনা।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাডক্লিফ ডিপার্টমেন্ট অব মেডিসিন- ল্যাবে কোভিডের সময় অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা হয়েছিল। অহনা সেখানকার বিজ্ঞানীদের সঙ্গেও গবেষণায় অংশ নেবেন।
শুচিস্মিতা মৈত্র কিংস কলেজ লন্ডনের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ফার্স্ট ক্লাসসহ স্নাতক (ব্যাচেলর) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডির প্রস্তাব (অফার) ছাড়াও তিনি ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনে মাস্টার্স প্রোগ্রাম এবং নরউইচ মেডিকেল স্কুলে এমবিবিএস কোর্স করার প্রস্তাবও পেয়েছেন। এ ছাড়া তিনি লন্ডনের কিংস কলেজে ডক্টরাল ট্রেনিংয়ের জন্য সম্পূর্ণ অর্থায়িত রিসার্চ ফেলোশিপে নির্বাচিত হয়েছেন। গ্রীষ্মকালীন ফেলোশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমেও তিনি আধুনিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। একই সঙ্গে অক্সফোর্ড, ইম্পেরিয়াল ও যুক্তরাজ্যের একটি মেডিকেল স্কুল থেকে ভর্তি প্রস্তাব পেয়ে ক্যারিয়ারের শুরুতেই চিকিৎসা গবেষণায় অবদান রাখতে শুরু করেছেন।
২০০৫ সালে এক বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান শুচিস্মিতা মৈত্র। সেখানে ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত গ্রামার স্কুল সাউথ অ্যান্ড হাই স্কুল ফর গার্লসে পড়াশোনা করেছেন। এবং অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি এসেক্সে জার্মান ভাষা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। এডুকেশন পারফেক্ট ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানে জাতীয়ভাবে শীর্ষস্থান লাভ করেছেন এবং মাঙ্গা হাই ম্যাথমেটিকস কম্পিটিশনে যুক্তরাজ্যে প্রথম হয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি।
শুচিস্মিতার প্রতিভা কেবল বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গনিতে -এ সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি শিল্পকলায়ও অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। ট্রিনিটি কলেজ লন্ডন থেকে ব্রোঞ্জ ও সিলভার আর্টস অ্যাওয়ার্ড সম্পন্ন করেছেন। এলএএমডিএ গ্রেড- ৫ স্পিকিং ইন পাবলিক–এ তিনি সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেছেন। এ ছাড়াও তিনি ভাষাগত ও নেতৃত্বদানের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন জ্যাক প্যাচি স্পিক আউট চ্যালেঞ্জের আঞ্চলিক ফাইনালিস্ট হিসেবে।



