ঢাবিতে আপৎকালীন আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু

ঢাবিতে ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস থেকে শুরু হয় ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের আপৎকালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া। ইতোমধ্যে পাঁচটি ছাত্রী হলের ৫৮৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য আপৎকালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থী প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে সরাসরি তাদের একাউন্টে পাচ্ছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পাঁচটি ছাত্রী হলে আবাসন সংকট নিরসনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক উমামা ফাতেমার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ সহায়তা পাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধ সহস্রাধিক ছাত্রী।
অসচ্ছল ছাত্রীদের আপৎকালীন আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গত জানুয়ারি মাসে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী’র নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এবারেই প্রথম অসচ্ছল ছাত্রীদের বিশেষ আপৎকালীন আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হয়।
উমামা ফাতেমা বলেন, ৫ই আগস্টের পর অনেক মেয়ে আবাসন সংকটে ভুগছিল এবং অনেকের সেই আর্থিক অবস্থাটাও ছিল না যে তারা বাইরে বাসা ভাড়া করে থাকবে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনও করেছে। পরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করি। তারা আমাদেরকে একটি আবেদনপত্র দিতে বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘এখনও অনেকের আবাসন সংকট দূর হয়নি এবং আপৎকালীন আর্থিক সহায়তাও পাচ্ছে না।’
এ বিষয়ে ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রায় ৫৩ ভাগই ছাত্রী। অথচ তাদের জন্য মাত্র ৫টি আবাসিক হল রয়েছে। অনেক ছাত্রী প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসে। ঢাকায় তাদের আত্মীয়-স্বজন থাকে না। শুরুতে টিউশনিও মেলে না। সব মিলিয়ে তাদের জন্য জীবন কঠিন। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তারপরও শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘবের জন্য আমরা চেষ্টা করছি’।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন যেমন রয়েছে তেমনি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা চাই, ভবিষ্যতে এই সহায়তা সকল শিক্ষার্থী যেন পায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে বেশ কয়েকটি হল নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে এবং পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলেই শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট অনেকটাই দূর হবে।



