বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
নারী

লোহাগড়ার মেয়ে থেকে জাতীয় ট্র্যাকের রানী

WhatsApp Image 2025-09-06 at 6.44.06 PM

জাতীয় স্টেডিয়ামের লাল ট্র্যাকে খালি পায়ে ছুটছেন এক তরুণী। দর্শকসারির চোখ আটকে যায় তাঁর ভঙ্গিতে, দৃঢ়তায়। ১৭তম জাতীয় অ্যাথলেটিকসে তিনি শুধু দৌড়াননি—একই আসরে চারটি সোনা ও তিনটি রেকর্ড গড়ে হয়েছেন দেশসেরা নারী অ্যাথলেট। তিনি নড়াইলের লোহাগড়ার রিনকী বিশ্বাস।

হারিয়ে যাওয়া সময়, আবার ফিরে আসা

করোনা আর অসুস্থতা যেন থামিয়ে দিয়েছিল তাঁর দৌড়। টানা দুই বছর কোনো পদক পাননি। হতাশা ভর করেছিল, কিন্তু হাল ছাড়েননি। ট্র্যাকে ফিরে এসে সবার জবাব দিলেন পারফরম্যান্স দিয়ে। কোচ শফিকুল ইসলামের ভাষায়, “জাতীয় অ্যাথলেটিকসে চারটি ইভেন্টে চারটি সোনা—রিনকীর মতো কামব্যাক আগে দেখা যায়নি।”

ক্রীড়া শিক্ষকের ডাকে যাত্রা শুরু

রিনকীর জন্ম লোহাগড়ার কুন্দশী গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই মাঠে খেলাধুলা ছিল তাঁর পছন্দ। তবে দৌড়বিদ হওয়ার ভাবনা কখনো আসেনি। ২০১৮ সালে লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক দিলীপ চক্রবর্তী একদিন হঠাৎ তাঁকে দৌড়াতে বলেন। সেই দৌড়ই খুলে দেয় নতুন অধ্যায়ের দরজা। কয়েক মাসের প্রশিক্ষণের পর জাতীয় জুনিয়র মিটে প্রথমবার অংশ নিয়ে জেতেন ১৫০০ মিটারের সোনা।

এরপর বাংলাদেশ নৌবাহিনী তাঁকে দলে ভিড়িয়ে নেয়। বাবা বসন্ত বিশ্বাসের আস্থাও ছিল শিক্ষকের ওপর। সেই আস্থার প্রতিদানই রিনকী দিয়েছেন একের পর এক পদক দিয়ে।

পদকের ঝুলিতে অর্জন

২০১৯–২০ সালে টানা ৩০০০ মিটারে সোনা, ২০২১ সালে ৫০০০ মিটারে সোনা ও সাউথ এশিয়ান ক্রস কান্ট্রিতে তৃতীয় স্থান—সব মিলিয়ে দ্রুতই আলোচনায় উঠে আসেন। তবে ২০২২–২৩ সালের অসুস্থতা কাটিয়ে এবারের জাতীয় অ্যাথলেটিকসেই যেন সত্যিকারের রিনকীকে খুঁজে পেলেন সবাই।

পরিবার, অনুপ্রেরণা আর লক্ষ্য

পড়াশোনায় কিছুটা পিছিয়ে গেলেও চেষ্টা ছাড়েননি। বর্তমানে একটি কারিগরি কলেজে এইচএসসি পড়ছেন তিনি। পরিবারের তিন ভাইবোনের মধ্যে রিনকীর বড় বোন সংসারী, আর ভাই সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট। জাতীয় সাফল্যের পর বাড়ি ফিরলে গ্রামের মানুষ তাঁকে নিয়ে গর্ব করেন।

এবার তাঁর লক্ষ্য জানুয়ারিতে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় সাফ গেমস। রিনকীর কথায়, “দেশের জন্য সেরা কিছু করতে চাই। এই সাফল্যই আমাকে সামনে এগোতে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।”

গ্রামের মাটিতে খালি পায়ে দৌড় শুরু করা রিনকী আজ দেশের সেরা অ্যাথলেট। পদক ও রেকর্ডের ভেতর দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—অধ্যবসায় থাকলে কোনো ব্যর্থতা স্থায়ী নয়, প্রতিটি পতনই আবার উঠে দাঁড়ানোর নতুন সুযোগ।