বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

২৫ লাখ টাকা খরচ করে সুইজারল্যান্ডে স্বেচ্ছায় প্রাণহানি আইরিশ নারীর

WhatsApp Image 2025-09-06 at 3.46.33 PM

পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়েই সুইজারল্যান্ডে গিয়ে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেছেন এক আইরিশ নারী। ৫৮ বছর বয়সী মরিন স্লাফ গত ৮ জুলাই পরিবারকে জানান, তিনি বন্ধুদের সঙ্গে লিথুয়ানিয়া যাচ্ছেন। তবে আসলেই তিনি গিয়েছিলেন জীবন শেষ করতে।

প্রায় ২৫ লাখ টাকা খরচ করে তিনি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। মৃত্যুর আগে বিষয়টি জানতেন কেবল তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাঁদের একজন মৃত্যুর একদিন আগে মরিনের মেয়ে মেগান রয়্যালকে পরিকল্পনার কথা জানান। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কিছুই করার সুযোগ ছিল না।

মেগান রয়্যাল আইরিশ ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, “রাতে প্রায় ১০টার দিকে মায়ের এক বন্ধু আমাকে মেসেজ করে জানান যে মা সুইজারল্যান্ডে আছেন। তিনি ঘুরতে যাননি, বরং স্বেচ্ছায় মৃত্যুর জন্য গেছেন। এ কথা শুনে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।”

এরপর মেগান বিষয়টি তাঁর বাবাকে জানান এবং মরিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু পরদিন তিনি একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পান, যেখানে জানানো হয় মরিন স্লাফ মারা গেছেন।

মেগান বলেন, “সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল কেবল মায়ের মৃত্যুর সংবাদ নয়, বরং জানানো হয় তাঁর মরদেহের ছাই আমাকে পাঠানো হবে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর। তখন মনে হয়েছিল আমার পৃথিবীটা শেষ হয়ে গেছে।”

জানা গেছে, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজটি পাঠিয়েছিল পেগাসস নামের একটি অলাভজনক সংস্থা, যারা স্বেচ্ছা মৃত্যুর সহায়তা দেয়। গোপনে এই সংস্থার কাছে আবেদন করেছিলেন মরিন। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই তিনি সুইজারল্যান্ডে যান।

মরিনের পরিবার এখন প্রশ্ন তুলেছে, তাঁদের অজ্ঞাতে কীভাবে সংস্থাটি তাঁকে সহায়তা করল।

মেয়ের দাবি, মরিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। দুই বোনের মৃত্যু তাঁকে ভীষণভাবে আঘাত করেছিল। তবে মেগান মনে করেন, তিনি এতটা অসুস্থ ছিলেন না যে জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়।