বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

বি/পর্যস্ত আফগান নারীরা, ভূমিকম্পের পরও ব/ঞ্চিত উদ্ধার তৎপরতা থেকে

pak af

সাম্প্রতিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত আফগানিস্তান। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত আফগানিস্তানে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হলেও তা মূলত পুরুষদের কেন্দ্র করেই পরিচালিত হচ্ছে। ধর্মীয় বিধিনিষেধের কারণে নারী ভিকটিমরা মারাত্মকভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ৩১ আগস্ট রোববার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কুনারে ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প এবং তারপর ৫ দশমিক ২ এবং ৪ দশমিক ৫ মাত্রার দু’টি ‘আফটার শক’ হয়। ভূপৃষ্ঠের অগভীর অঞ্চলে হওয়া এ ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৩ হাজার ১২৪ জন এবং প্রায় ৬ হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

আফগানিস্তানে ইতোমধ্যে উদ্ধার তৎপরতা শুরুও হয়েছে। ভূমিকম্পে যারা নিহত ও আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ নারী ও শিশু। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে উদ্ধারকর্মীরা শুধুমাত্র পুরুষ ভিকটিমদের উদ্ধার করছেন। নারী এবং দশ বছরের অধিক বয়সী মেয়ে শিশুদের উদ্ধার করা হচ্ছে না।

আফগানিস্তানের নারী অধিকারকর্মী ফাতেমেহ রেজায়ি জানিয়েছেন, তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে অপরিচিত নারী ও পুরুষদের মধ্যে শারীরিক সংস্পর্শ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি ভূমিকম্পের মতো জরুরি অবস্থাতেও এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়নি। ফলে, পুরুষ উদ্ধারকর্মীরা আহত নারীদের স্পর্শ করতে পারেন না। তাদের ধ্বংসস্তূপ থেকে তুলতেও ভয় পান, কারণ এতে ধর্মীয় বা সামাজিক শাস্তির আশঙ্কা থাকে। সরকারিভাবে আহত নারী ও মেয়ে শিশুদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীদের কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। কিন্তু তারপরও পুরুষদের তুলনায় উদ্ধার হওয়া নারী ও মেয়েশিশুদের অনুপাত ব্যাপকভাবে কম। 

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডিডব্লিউকে ফাতেমেহ রেজায়ি বলেছেন, “অপরিচিত কোনো পুরুষ উদ্ধারকর্মী আটকে পড়া নারী ও মেয়ে শিশুদের সহযোগিতা করবে, এটা পরিবারগুলো থেকে অনুমতি দেওয়া হয় নি।”

পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় অল্প যে কয়েক জন নারী ও মেয়ে শিশুকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হচ্ছে, কঠোর পর্দাপ্রথার কারণে তাদের অধিকাংশকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে না। কারণ হাসাপাতালগুলোতে প্রায় সব চিকিৎসকই পুরুষ। এদিকে কুনারে ভূমিকম্পের পর আহত অবস্থায় উদ্ধারকৃতদের কুনার এবং পার্শ্ববর্তী নানগারহার প্রদেশের হাসপাতালগুলোতে আনা হচ্ছে। তবে অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালগুলোতে নারী চিকিৎসকের সংকট থাকায় অল্প যে কয়েকজন আহত নারীকে হাসপাতালে আনা হচ্ছে তারা চিকিৎসা পাচ্ছেন না ।

জাহরা হাগপারাস্ত নামের এক চিকিৎক ডিডব্লিউকে জানিয়েছেন, “আমাদের কাছে তথ্য আছে যে ভূমিকম্পে কুনারে শত শত নারী নিহত ও আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেক গর্ভবতী নারীও আছেন, কিন্তু তারা চিকিৎসা পাচ্ছেন না।” তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্পের পর দুর্গত নারীদের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে অনেক নারী চিকিৎসক এগিয়ে আসতে চেয়েছেন, কিন্তু আফগান সরকার তাদের অনুমতি দেয়নি।

২০২১ সালে দ্বিতীয় দফায় কাবুল দখল করে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠী তালেবান বাহিনী। ক্ষমতা দখল করার পর থেকে আফগানিস্তানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্র থেকে নারীদের বিতাড়ন করা শুরু হয়। গত তিন বছরে অনেক নারী চিকিৎসকে চাকরিচ্যুত ও হয়রানি করেছে তালেবান প্রশাসন।

সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ডিডব্লিউ