রুদ্র গোস্বামীর কবিতা

“ভালোবাসা”
ভালোবাসা কি
যা তোমাকে স্বপ্ন দেখায় ভালো থাকার
অথবা যা তোমাকে অক্লান্ত সুখি করবে ভাবো
__না
ভালোবাসা তোমার জীবনের সেই আশ্চর্য প্রসাধন
দুঃখ পাবে জেনেও
হৃৎপিণ্ড খুলে যার জন্য তুমি
ক্লান্তিহীন অপেক্ষা করো
যেতে পারবে ?
এই যে তুমি বার বার চলে যাই বলো
ধরো তুমি চলে গেছো
খানিকক্ষণ পর ফিরে এসে যদি দেখো
কষ্টে ভিজে যাচ্ছে আমার বুক
আমার চোখের দিকে তাকিয়ে
তুমি কি তখন মুখ লুকাতে পারবে ?
বলো পারবে ?
আর এসে দেখো যদি
হাতে আমার ভেজা রুমাল,
তখনও অপেক্ষায় আমি,যাইনি কোথাও
যদি বলি, এলে কেন ?
চাই না তোমায়,চলে যাও যেখানে ছিলে
আমাকে জড়িয়ে না ধরে তখন তুমি পারবে?
বলো পারবে ?
এই যে আমাদের কাছে
আমিও আসি আর তুমিও আসো
এ কথা তো জানে দশজনে
ভালবাসাবাসি কতখানি আছে তোমার আমার
এতো ভালবাসা ছেড়ে
তুমি কি কোথাও যেতে পারবে ?
বলো যেতে পারবে ?
“হৃদয় ভাঙা অতটাও সহজ নয়
আগে তোমাকে কাছে আসতে হবে
তারপর হতে হবে বিশ্বস্ত
বিশ্বস্ত হতে হতে মিশে যেতে হবে বুকের গভীরে
চোখের জলকে দিতে হবে তোমার হাতের আঙুল
আবেগের সঙ্গে ভাব জমাতে হবে
অভিমানের সঙ্গে ভাব জমাতে হবে
মন খারাপগুলোকে দিতে হবে তোমার হাসি
বলো বলো বন্ধু
এতটা সময় হবে কি তোমার?”
সে এলে
সে এলে আজ কি নিয়ে কথা হতে পারে?
আত্রলিতার খোলা চিঠি? ডিউকের আত্মহত্যা?
অথবা বিলি মরিসনের পিয়ানো?
কি নিয়ে আজ তার সাথে কথা হতে পারে!
হেনরিয়েটার ভাঙা আয়না? বন্দরে নোঙর করা যুদ্ধজাহাজ?
কিংবা কাঁসাইয়ের ঘাটের সেই দুরন্ত প্রেমিক প্রেমিকা?
সে এলে সব যুদ্ধকে বুকে নিয়ে কাঁপি, সব রহস্যকে গুছিয়ে রাখি।
তামাম আত্মহত্যারা আমার গুপ্ত কুঠুরিতে ভিড় করে।
একটা মনের কথা বলার জন্য রোজ এত যুদ্ধ, এত আত্মহত্যা,
এত রহস্য বুকের মধ্যে নিয়ে কি বাঁচা যায়?
চোখ
তুমি চলে যাওয়ার পর স্লিপিংপিল অথবা নেশার গ্লাস কোনটাই আমাকে ছুঁতে পারেনি।
কেননা আমি বিশ্বাস করি মৃত্যু অথবা বখে যাওয়া কোনোটাই ভালোবাসার প্রতিশব্দ নয়।
শুধু অফিস ফিরতি পথে যখন স্ট্রিটলাইটগুলো পাখির চোখের মতো তাকিয়ে থাকে,
আর রাস্তার বাঁকগুলো মনে করিয়ে দেয় একটা লোক একা, কী ভীষণ একা একা!
তখন এই ভেবে খুব কষ্ট হয় যে এমন একটা সন্ধ্যায় ওদের চোখের উপর দিয়ে,
ওদের বুকের উপর দিয়ে, তোমার হাত ধরে আমি আর কখনো হেঁটে যেতে পারব না।
কেউ একটা তো চাইই
কেউ একটা তো চাইই, টিপ সরে গেলে
আয়নার মতো বলবে ‘টিপ বাঁকা পরেছ।’
চোখের কাজল লেপটে গেলে ধরিয়ে দেবে।
কেউ একটা তো চাইই, পিছু ডাকবে
বলবে ‘সাবধানে যেয়ো।’
কেউ একটা তো চাইই, ঘড়ির কাঁটার মতো
কাছে থাকবে। অভিমান দেখলেই বলবে,
‘সবুজ পাতা তোমাকে ভালোবাসি।’
কেউ একটা তো চাইই, ভুল গুলোকে
শুধুই বকবে না। কাছে টেনে বলবে ‘বোকা মেয়েটা,
আর কিছু ভালো রাখা যত্ন নিয়ো।’
কেউ একটা তো চাইই, খোলা জানালার মতো
আমাকে আকাশ দেখাবে। বলবে ‘এখানে ঠিকানা রেখে
তুমি পাখি হয়ে যাও।’
কেউ একটা তো চাইই, হাওয়ার শিসের মতো
কানে এসে বলবে ‘আমাকে ছাড়া কারো
প্রেমে পড়তে নেই।’
কেউ একটা তো চাইই, শাসন করবে আমার
খুচরো বিষাদ, আর আমাকে লুঠতে আসা
ডাকাত স্মৃতি।
কেউ একটা তো চাইই, গ্রীষ্মে বিছিয়ে রাখবে বুকে
শীতলপাটি, বলবে ‘এই বুকের মধ্যে তোমাকে
বসতে দিলাম।’
কেউ একটা তো চাইই, কাছে থাকবে
“তুমি” বললেই যেমন দুঠোঁটে দুঠোঁট মেশে।
কেউ তো একটা চাইই, কিছুটা সে তার মতো থাক,
কিছুটা আমার মতো হবে।


