বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

গুপ্তরাজনীতির অবসান ও নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দাবি

WhatsApp Image 2025-09-03 at 7.50.34 PM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘গুপ্তরাজনীতি’র বিরুদ্ধে সরব হয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির অভিযোগ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে পরিচয় গোপন রেখে রাজনীতি করছে এবং এর সুযোগে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের কর্মীদের পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীরাও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।

ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এক নারী শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের হুমকির প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ছাত্রদল নেতারা। সেখানে সংগঠনের নারী নেত্রীরাও বক্তব্য রাখেন। তাঁদের অভিযোগ—গুপ্ত সংগঠন শিবিরের নেতা–কর্মীরা সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

ছাত্রদল সভাপতির বক্তব্য

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, শিবির গত ১৫ বছর ধরে ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় থেকে গোপনে রাজনীতি করেছে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি শিবিরকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘‘যদি সত্যিই লজ্জা পায় নারীদের মতো, তাহলে তারা বোরকা ও চুড়ি পরে রাজনীতি করুক। ছাত্ররাজনীতি করার জন্য সাহস ও বিবেক প্রয়োজন।’’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে শিবির কখনো খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেনি, বরং ছাত্রলীগের পদ-পদবি নিয়ে নির্যাতনে যুক্ত থেকেছে। এমনকি তাঁদের বিরুদ্ধে একটি জিডিও হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন বলেন, ‘‘ডাকসু নির্বাচনে রিটকারী এক শিক্ষার্থীকে পদযাত্রা করে গণধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদে আমরা আজ মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি।’’ তাঁর অভিযোগ, সাইবার বুলিং, নারী হেনস্তা ও হুমকির প্রতিটি ঘটনায় শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতা–কর্মীরা জড়িত।

তিনি দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও প্রক্টরের পৃষ্ঠপোষকতায় গুপ্তরাজনীতি চলমান আছে। ‘‘শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে গণতান্ত্রিক রাজনীতি করতে চাইলে তা করতে হবে দৃশ্যমানভাবে, গোপনে নয়’’—বলেন নাছির উদ্দিন।

নারী নেত্রীদের দাবি

মানববন্ধনে উপস্থিত ছাত্রদলের নেত্রী রুপন্তী রত্না বলেন, ‘‘আমরা নারী শিক্ষার্থীরা রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চাই, কিন্তু গুপ্ত সংগঠনের ভয়ভীতি আমাদের থামিয়ে দেয়। দেশের ৫২ শতাংশ ভোটার নারী, অথচ আমরা বারবার বাধার মুখে পড়ি।’’ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রের কাছে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির দাবি জানান।

ছাত্রদলের সহসভাপতি রেহানা আক্তার শিরিন বলেন, ‘‘৭১–এর পরাজিত শক্তি আর ’২৪–এর পরাজিত শক্তি আজ এক হয়ে নারীদের নিপীড়ন করছে। প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া আলী হুসেনসহ নারী হেনস্তাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।’’

একইভাবে, ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় নারীদের হয়রানির অভিযোগ করলে কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দেয় না। সরকারের কাছে তাঁর দাবি, হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ছাত্রদলের অঙ্গীকার

মানববন্ধনে নেতারা ঘোষণা দেন, ‘‘যেখানেই গুপ্তরাজনীতি হবে, সেখানেই প্রতিহত করা হবে।’’ একই সঙ্গে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে যেন তাঁরা শিবিরের কোনো প্যানেলকে ভোট না দেন।

এই কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মানসুরা আলম। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নারী নেতা–কর্মীরা।