বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

শিশুহত্যাকাণ্ডকাণ্ডের করুণ বাস্তবতায় ভেনিস উৎসবে ‘হিন্দ রজবের কণ্ঠস্বর’

WhatsApp Image 2025-09-03 at 6.15.13 PM

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমা ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব (হিন্দ রজবের কণ্ঠস্বর)’ আজ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে—এ তথ্য আজ বুধবার এএফপি জানায়। ছবিটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট ও হোয়াকিন ফিনিক্স।

উৎসবপ্রাঙ্গণে প্রতিবাদ

ইতালির ভেনিসে চলছে ৮২তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। এ আসরে গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের বিরোধিতা বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। শনিবার উৎসবস্থলের ফটকে হাজারো মানুষ ‘গণহত্যা বন্ধ করুন’ শ্লোগানে বিক্ষোভ করেন। এর আগে চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে যুক্ত দুই হাজার ব্যক্তি আয়োজকদের উদ্দেশে খোলা চিঠিতে ইসরায়েলি সরকারের প্রকাশ্য নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান। আয়োজকেরা সে আহ্বান না মানলেও ‘হিন্দ রজবের কণ্ঠস্বর’-এর প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ১১ দিনের এ আয়োজনে ছবিটি শীর্ষ পুরস্কারের আলোচনায় থাকবে।

নির্মাতা ও প্রযোজনা

ছবিটি পরিচালনা করেছেন তিউনিসিয়ান নির্মাতা কাউথার বেন হানিয়া, যিনি ফ্রান্সে বড় হয়েছেন। নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত আছেন জনাথান গ্লেজার—‘দ্য জোন অব ইন্টারেস্ট’-খ্যাত পরিচালক।

মহরতের আগের অনুষ্ঠানে বেন হানিয়া বলেন, ছবির কেন্দ্রে একটি সরল অথচ নাড়া দেওয়া সত্য আছে—“একটি শিশু সাহায্য চাইছে, তারপরও কেউ এগিয়ে এল না—এ বাস্তবতা মেনে নেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।”

হিন্দ রজবের ঘটনা

২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি, গাজা সিটি ছাড়ার পথে কালো কিয়া পিকানটো গাড়িতে হিন্দ রজব পরিবারের ছয় সদস্যসহ ছিলেন—চাচা বাশার হামাদা, চাচি ও তাঁদের চার সন্তান। ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণে সবাই ঘটনাস্থলে নিহত হন, রজব বেঁচে যায়।

সে কোনোভাবে একটি মোবাইল ফোন পেয়ে ধারাবাহিকভাবে সাহায্য চায়; রেড ক্রিসেন্ট সেই কলগুলো রেকর্ড করে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে কাঁদতে কাঁদতে সহায়তা চাইলেও পরক্ষণেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রজবের শেষ কথা ছিল—“আমি খুব ভয় পাচ্ছি, দয়া করে আসুন।”

কল পাওয়ার পর রেড ক্রিসেন্ট একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠায়; কিন্তু রজবকে উদ্ধারে যাওয়া দুই উদ্ধারকর্মীও ফেরেননি। ১২ দিন পর উদ্ধারকর্মী দুজনসহ রজব ও তাঁর পরিবারের সবার মরদেহ পাওয়া যায়।

ছবিতে বেন হানিয়া সেই ফোনালাপের অডিও ব্যবহার করেছেন; তবে পুরো গল্পটি তিনি রেড ক্রিসেন্টের একজন কাল্পনিক কর্মীর বর্ণনায় এগিয়েছেন। তাঁর কথায়, “অনেক সময় যা চোখে দেখেন না, সেটিই বেশি ভয়ংকর।”

প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা

ভেনিস উৎসবের পরিচালক আলবের্তো বারবেরা মনে করেন, ছবিটি দর্শক ও সমালোচকদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। হিন্দের মা উইসাম হামাদা আশা প্রকাশ করেছেন—এই সিনেমা গাজার ওপর অভিযান থামাতে ভূমিকা রাখবে এবং অন্য শিশুদের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করবে। প্রায় দুই বছরের আগ্রাসনে ৬৩,৬৩৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন—বেশিরভাগই বেসামরিক—এ অভিযোগও তিনি তুলেছেন; তাঁর পরিবার এখনো গাজা সিটিতে চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “বিশ্ব আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে—আমরা মরছি, অনাহারে আছি, আতঙ্কে বাস করছি, ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছি—কেউ কিছু করছে না।”