দ্বিতীয়বারের মতো আগা খান পুরস্কার পাচ্ছেন মেরিনা তাবাশ্যুম

বাংলাদেশের খ্যাতিমান স্থপতি মেরিনা তাবাশ্যুম, তাঁর নকশা করা ‘খুদি বাড়ি’ প্রকল্প আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার–২০২৫–এর জন্য মনোনীত হয়েছে। মেরিনা তাবাশ্যুমই প্রথম বাংলাদেশি স্থপতি যিনি একাধিকবার এই মর্যাদাপূর্ণ স্থাপত্য পুরস্কার জিতেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এই পুরস্কারের জন্য মেরিনা তাবাশ্যুমসহ সাত বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। বিশ্বব্যাপী স্থাপত্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার ২০২৫ পাওয়ায় মেরিনা তাবাশ্যুমকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
অভিনন্দনবার্তায় তিনি বলেন, এই বিরল ও ঐতিহাসিক অর্জন বাংলাদেশের জন্য গৌরবময় সাফল্য। তিনি উল্লেখ করেন, নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নির্মিত জলবায়ু-সহনশীল, সাশ্রয়ী ও বহনযোগ্য গৃহনকশা খুদি বাড়ি প্রকল্প মানবিকতা ও দূরদর্শিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এর মাধ্যমে বিশ্বকে দেখানো হয়েছে যে স্থাপত্য কেবল নান্দনিকতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং মর্যাদা, স্থিতিশীলতা ও মানবমেধার সৃজনশীল শক্তির প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, ২০১৬ সালে ঢাকার বায়তুর রউফ মসজিদ নকশার জন্য মেরিনা তাবাশ্যুম প্রথমবার আগা খান অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছিলেন। সেটি ছিল বাংলাদেশের স্থাপত্যকে বিশ্বপরিমণ্ডলে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়ার মাইলফলক। এবারের স্বীকৃতি সেই ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করেছে। এ অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সৃজনশীলতা ও সামাজিক উদ্ভাবনের মঞ্চে স্থাপন করা হলো।
মেরিনা তাবাশ্যুম বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারপারসন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের প্রধান পরামর্শক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। এছাড়াও ২০১৬ সালে ঢাকার বায়তুর রউফ মসজিদ নকশার জন্য আগা খান অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। এবং অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা ও ২০২১ সালে মানবিক ঘর তৈরির জন্য যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ সন পদক পান খ্যাতিমান এই স্থপতি।



