বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

অ্যাপলবিস থেকে বিদায়, পরে সেই প্রতিষ্ঠান কিনে নিলেন জুলিয়া স্টুয়ার্ট

WhatsApp Image 2025-09-02 at 9.03.36 PM

একসময় যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ চেইন অ্যাপলবিস–এর প্রেসিডেন্ট ছিলেন জুলিয়া স্টুয়ার্ট। তাঁকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক করতে পারলে সিইও করা হবে। জুলিয়া চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন, নতুন দল গড়েন, পরিকল্পনা সাজান আর নিরলস পরিশ্রমে তিন বছরের মধ্যেই অ্যাপলবিসকে ঘুরে দাঁড় করান। শেয়ারের দামও দ্বিগুণ হয়ে যায়।

আত্মবিশ্বাস নিয়ে সাফল্যের গ্রাফ হাতে একদিন বোর্ডরুমে ঢোকেন তিনি। ভেবেছিলেন স্বপ্ন পূরণের সময় এসে গেছে। কিন্তু চেয়ারম্যান স্পষ্ট জানিয়ে দেন—“না, কখনোই না।” সেই এক শব্দেই ভেঙে গিয়েছিল তাঁর প্রত্যাশা। তবু জুলিয়া ভেঙে পড়েননি, বরং নতুনভাবে পথচলার সিদ্ধান্ত নিলেন।

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে তিনি যোগ দিলেন ইন্টারন্যাশনাল হাউস অব প্যানকেকসে (আইএইচওপি), যার অবস্থা তখন ছিল নাজুক। পাঁচ বছরের মধ্যেই আইএইচওপিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান তিনি। এরপর তাঁর মাথায় আসে আরেকটি কৌশল—ঝুঁকি এড়াতে অন্য একটি ব্র্যান্ড কিনতে হবে।

২০০০ সালে আইএইচওপি ২৩০ কোটি ডলারে কিনে নেয় অ্যাপলবিসকে। এক অর্থে এটি ছিল ব্যবসায়িক সাফল্য, আরেক অর্থে মধুর প্রতিশোধ। চুক্তি শেষ হওয়ার পর জুলিয়া শান্ত কণ্ঠে ফোন করে অ্যাপলবিসের সেই প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে বলেছিলেন, “এখন আমাদের একজন নেতাই যথেষ্ট। আপনাকে বিদায় নিতে হচ্ছে।”

দুই দশক অপেক্ষার পর পাওয়া এ সাফল্য জুলিয়াকে করপোরেট দুনিয়ার কিংবদন্তি করে তোলে। পরবর্তীতে তিনি ডাইন ব্র্যান্ডস গ্লোবালের চেয়ারম্যান এবং ডাইনইকুইটি ইনকরপোরেশনের সিইও হিসেবে এক দশক দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ফাস্টফুড চেইন বোজ্যাংগলসসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের বোর্ড সদস্য তিনি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ক একটি অ্যাপের প্রতিষ্ঠাতাও।

আজ তিনি শুধু সফল ব্যবসায়ী নন, নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।