বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
স্পটলাইট

বিমানবাহিনীতে প্রথম নারী এসথার ম্যাকগোউইন ব্লেক

blk

১৯৪৮ সালের ৮ জুলাই, ঘড়িতে তখন ঠিক ১২টা বাজছে। ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তৈরি হয়েছিল সেই রাতে। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ফোর্ট ম্যাকফারসনে, প্রথম নারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন গঠিত বিমানবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন এসথার ম্যাকগোউইন ব্লেক। তাঁর এই সিদ্ধান্ত নারীদের জন্য সামরিক সেবায় নতুন এক পথ উন্মোচনের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।

এসথার ব্লেকের সামরিক জীবনে যোগদানের পেছনে ছিল ব্যক্তিগত প্রেরণা। ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে তিনি নারী সেনা কোরে যোগ দেন। তাঁর বড় ছেলে একজন বৈমানিক ছিলেন। যুদ্ধের সময় বেলজিয়ামে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিখোঁজ হন। তিনি বিশ্বাস করতেন, যদি তিনি অফিসের কাজ নেন তাহলে হয়তো তার ছেলে দ্রুত ঘরে ফিরতে পারবে। যুদ্ধ চলাকালে তিনি সেনাবাহিনীর বিমান শাখায় একজন বেসামরিক কর্মচারী হিসেবেও কাজ করতেন। ১৯৪৭ সালের ২৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনী একটি আলাদা বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকে নারীদের স্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতি চলছিল।

১৯৪৮ সালের ৮ জুলাই একটি নতুন আইন কার্যকর হলে এসথার ব্লেক প্রথম নারী হিসেবে বিমান বাহিনীতে নাম লেখান। তিনি কেবল প্রথম নারী সদস্য ছিলেন না, বরং তিনি সমাজ ও বিশ্বের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি হন বিমান বাহিনীর প্রথম আনুষ্ঠানিক নারী সদস্য। তার পদক্ষেপ প্রমাণ করে দেয়, নারীরাও সামরিক বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু যুদ্ধের সময় নয়, সবসময়ের জন্য। যদিও তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেননি। অফিসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতেন। কিন্তু এসব কাজ ছাড়া বাহিনীর কাঠামো চলত না। তার কাজ ছিল নিষ্ঠা ও দায়িত্বের প্রতিচ্ছবি। পরবর্তীতে তিনি সামরিক জীবন থেকে অবসর নিলেও তার অবদান আজও স্মরণীয়। তিনি ছিলেন নারীদের সামরিক বাহিনীতে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আন্দোলনের পথিকৃৎ। তাঁর নিঃশব্দ সাহস নারীদের জন্য নতুন দরজা খুলে দেয়।

নারীরা শুধু আজ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে নয় সারা বিশ্বে নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছে। পাইলট থেকে শুরু করে কমান্ডার পর্যন্ত নানা পদে রয়েছেন। আর এই যাত্রা শুরু হয়েছিল এসথার ম্যাকগোউইন ব্লেকের মতো এক সাহসী নারীর হাত ধরেই।