রাকসুর ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারী প্রার্থী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তাসিন খান। জানা যায়, ১৯৬৪ সালে রাকসু প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ১৪ বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে একাধিক ছাত্রী কেন্দ্রীয় সংসদের নির্বাচনে অংশ নিলেও কোনো নারী প্রার্থী এখন পর্যন্ত ভিপি পদে অংশ নেননি।
ইতিমধ্যে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। জুলাই আন্দোলনে ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক।
কেমন রাকসু চান- জানতে চাইলে তাসিন বলেন, আমি চাই, এমন একটি রাকসু; যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক বহুত্ব, এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা হবে প্রতিদিনের বাস্তবতা। দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা এই প্ল্যাটফর্মকে সক্রিয় ও কার্যকর করার লক্ষ্যে আমি কাজ করতে চাই।
তাসিন খান বলেন, রাকসু নির্বাচন রাজনৈতিক হয়ে ওঠা দেখে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। কারণ, আমি মনে করি, ছাত্র সংসদের নির্বাচন রাজনৈতিক হয়ে ওঠা ঠেকাতে হবে। তিনি বলেন, ‘যদি মাঠ ছেড়ে দিই, তাহলে বিষয়টা আসলেই রাজনৈতিক হয়ে উঠবে। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হতে এই পদে প্রার্থী হওয়া।’
তিনি আরও বলেন, আমার দক্ষতার জায়গা থেকে কিছু পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি। এটা আমার কাছে অনেক বড় বিষয়।
তবে সাইবার বুলিংয়ের শঙ্কায় আছেন তিনি। শঙ্কা প্রকাশ করে তাসিন বলেন, রাকসুতে বেশ বড় একটা ক্ষমতা অর্জনের বিষয় আছে। সেই জায়গা থেকে ক্যাম্পাসে একটা উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সাইবার বুলিং, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও সম্মানহানির আশঙ্কার রয়ে গেছে। ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্রহনন এবং ছবি বিকৃত করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো নোংরামি করা হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি এন্টি সাইবার বুলিং সেল গঠনের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু তার কার্যক্রম এখনও শুরু হয় নি বলে জানায় শিক্ষার্থীরা। ফলে নির্বাচনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন বলে অনেকেই শঙ্কায় আছেন।



