বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
জীবনযাপন

কর্মক্ষমতা বাড়ানোর গোপন চাবিকাঠি ছুটি

399-SM1104723

একটানা কল কাজের কারণে মানুষের মাঝে ছুটি মানেই শুধু আরাম বা ঘোরাঘুরি নয়। বরং শরীর ও মনের জন্য এক ধরনের অপরিহার্য থেরাপি। একঘেয়ে রুটিনের চাপে আমরা প্রতিদিন ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু গবেষণা বলছে সঠিকভাবে নেওয়া ছুটি শুধু মানসিক প্রশান্তি দেয় না। বরং কর্মক্ষমতা, মনোযোগ, সৃজনশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতাও বাড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার ফ্রাঙ্কলিন কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ছুটি নেয় এবং সেই সময়ে কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকে, তারা কর্মজীবনে আরও প্রাণবন্ত ও কার্যকর হয়ে ওঠে। তাঁদের মানসিক চাপ কমে, ঘুমের মান উন্নত হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও বাড়ে। অর্থাৎ ছুটি কাটানো মানেই নিজেকে নতুনভাবে রিচার্জ করা।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, আধুনিক কর্পোরেট সংস্কৃতিতে ছুটি নেওয়া অনেকের কাছেই বিলাসিতা মনে হয়। কেউ যদি বলেন তিনি ছুটিতে যাচ্ছেন, সহকর্মী বা কর্তৃপক্ষ অনেক সময় সেটিকে নেতিবাচকভাবে নেয়। অথচ বিজ্ঞান বলছে, ছুটি না নেওয়ার ফলেই উল্টো ক্ষতি হয়। বিশ্রাম ছাড়া সৃজনশীলতা বা উদ্ভাবনী শক্তি ধরে রাখা সম্ভব নয়। তাই ছুটি মানে দায়সারা সময় কাটানো নয়। বরং সুস্থ ও উৎপাদনশীল জীবনযাপনের জন্য এটি একান্ত প্রয়োজন।

ছুটি কার্যকর করার জন্য কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। সবচেয়ে আগে কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হতে হবে। ই-মেইল, ফোন কল বা মিটিং ছুটির সময় এড়িয়ে চলা উচিত। শুধু অলস হয়ে বসে থাকা নয়, ছুটির সময়ে শরীরচর্চা, হাঁটাহাঁটি, সাইক্লিং বা সাঁতারের মতো হালকা শারীরিক কাজে যুক্ত হলে মনও সতেজ হয়। নতুন জায়গায় ভ্রমণ, অপরিচিত পরিবেশে কিছু সময় কাটানোও মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘বাফার টাইম’। ছুটির আগে ও পরে কয়েকদিন সময় রাখলে কর্মজীবনে ফেরাটা সহজ হয় এবং ছুটির প্রভাবও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

আজকের ব্যস্ত কর্পোরেট দুনিয়ায় আমরা প্রায়ই ধরে নিই, ব্যস্ত থাকা মানেই সফলতা। কিন্তু বাস্তবে সুস্থ ও মানসিকভাবে স্থিতিশীল থাকাই সফলতার আসল ভিত্তি। প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত কর্মীদের শুধু দীর্ঘ সময় কাজ করানো নয়। বরং তাদের জন্য স্বাস্থ্যবান্ধব ও মানসিকভাবে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করা। কারণ ছুটি মানে সময় নষ্ট নয়, বরং নিজের প্রতি বিনিয়োগ।তাই পরেরবার ছুটির সুযোগ এলে দ্বিধা করবেন না। মনে রাখবেন একটি সঠিকভাবে পরিকল্পিত ছুটি শুধু আপনাকে স্বস্তি দেবে না। বরং কর্মজীবনে ফিরিয়ে দেবে নতুন উদ্যম, সৃজনশীলতা আর দক্ষতা।