বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
ভ্রমণ

ইন্দোনেশিয়ার কম পরিচিত ৫টি অপূর্ব দ্বীপ

1000010757

ভ্রমণ সবার কাছেই পছন্দের বিষয়। অনেকের কাছে ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণ মানেই বালি দ্বীপ। কিন্তু আপনি কি জানেন? বালির বাইরেও এই দেশে আছে অসংখ্য রূপকথার মতো দ্বীপ? বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপপুঞ্জ ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছে প্রায় ৭০ হাজার দ্বীপ। এর অনেকগুলো এখনো পর্যটকদের কাছে খুব একটা পরিচিত নয়। অথচ সৌন্দর্যে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই এই দ্বীপগুলো। স্বপ্নময় প্রকৃতি অনন্য সংস্কৃতি আর বিস্ময়কর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যে ভরপুর এসব দ্বীপ একবার দেখলেই মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই।

রাজা আম্পাত দ্বীপপুঞ্জ

পশ্চিম পাপুয়া প্রদেশের বান্দা সাগরে অবস্থিত চারটি দ্বীপ। ওয়াইগেও, বাতানতা, সালাওয়াতি ও মিসুল নিয়ে গঠিত রাজা আম্পাত। স্বচ্ছ নীল পানির মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো পাহাড় আর ঘন ম্যানগ্রোভ অরণ্য যেন এক জাদুকরী দৃশ্য। এখানে রয়েছে পৃথিবীর ৭৫ শতাংশ প্রবাল প্রজাতি এবং হাজারো মাছের সমাহার। তাই একে বলা হয় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের কেন্দ্রভূমি।

সুলাওয়েসি দ্বীপ

অর্কিড ফুলের মতো আকারের এই দ্বীপের কেন্দ্রে বাস করেন তোরাজা জনগোষ্ঠী। পাহাড়ি ঢালে ধাপে ধাপে সাজানো ধানক্ষেত আর টংকোনান নামের ঐতিহ্যবাহী ঘরগুলো দ্বীপটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। এখানকার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠান কয়েক দিন ধরে চলে। যা পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। পর্বতের গায়ে খোদাই করা গুহায় মৃতদের কাঠের প্রতিকৃতি বা ‘তাউ-তাউ’ স্থাপন করার প্রথাও আজও টিকে আছে।

ফ্লোরেস দ্বীপ

এখানকার মাউন্ট কেলিমুতুর শীর্ষে রয়েছে তিনটি আগ্নেয়গিরির গহ্বর হ্রদ, যেগুলোর প্রতিটির রং ভিন্ন ভিন্ন। কখনো কালো, কখনো পান্না সবুজ, আবার কখনো গোলাপি কিংবা লাল রঙে ঝলমল করে ওঠে হ্রদগুলো। ভোরে কুয়াশা সরে গেলে জাদুময় দীপ্তিতে চকচক করে ওঠে এই ‘তিউ আত পলো’ বা জাদুর হ্রদ। এটি স্থানীয়দের বিশ্বাসে মৃত আত্মাদের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত।

মালুক্কা দ্বীপপুঞ্জ

ভারত মহাসাগরে ভাসমান আগ্নেয় উৎসের এই দ্বীপগুলো একসময় ছিল জয়ফলের একমাত্র উৎস। ষোড়শ শতকে মসলাকে ঘিরে এখানে চলেছিল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। এখনও বান্দা নেইরা দ্বীপে দাঁড়িয়ে আছে সেই সময়ের ডাচ দুর্গগুলো। সমুদ্রতলের অক্ষত প্রবালপ্রাচীর আর বাতাসে ভেসে আসা জায়ফল-লবঙ্গের গন্ধ দ্বীপটিকে বানিয়েছে এক বিস্ময়কর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় স্বর্গ।

সুম্বা দ্বীপ

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত এই দ্বীপটি যেন এক জীবন্ত পোস্টকার্ড। সবুজ ঘাসে মোড়া পাহাড় নেমে গেছে সরাসরি সাগরের দিকে। পাহাড়চূড়ায় ছাউনি-টুপির মতো ছাদওয়ালা ঐতিহ্যবাহী ঘর নিয়ে গড়ে উঠেছে গ্রাম। নির্জন সৈকত, ঝরনার নিচে লুকানো সবুজ ল্যাগুন আর স্থানীয় ইকাত বয়নশিল্প দ্বীপটিকে করেছে বিশেষ। প্রতি বছর ফসল কাটার মৌসুমে আয়োজিত পাসোলা ঘোড়দৌড় সুম্বার সংস্কৃতিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

ভ্রমণের আসল আনন্দ শুধু পরিচিত গন্তব্যে নয়। অচেনাকে আবিষ্কারে পাওয়া যায় ভ্রমণের আসল আনন্দ। বালি দেখবেনই তবে সুযোগ পেলে ইন্দোনেশিয়ার এই কম পরিচিত দ্বীপগুলোতে ঘুরে আসুন। জীবনের অভিজ্ঞতা হবে আরও রঙিন। আর জানার ভাণ্ডারও সমৃদ্ধ হবে বহুগুণ।