‘নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেব’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জয়ী হলে নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন এবং ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা নিশ্চিত করতে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন বাম গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট সমর্থিত ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী শেখ তাসনিম আফরোজ (ইমি)।
শেখ তাসনিম আফরোজ বলেন, “আমাদের কোনো গুপ্ত এজেন্ডা নেই। ছাত্ররাজনীতি করে অন্যদের রাজনীতি করার অধিকার কেড়ে নেওয়া কিংবা ক্যাম্পাসে বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা আমরা করি না। প্রত্যেকে যেন নিজস্ব পরিচয় ও মর্যাদায় রাজনীতি করার অধিকার পান, সেটাই আমাদের দাবি এবং দীর্ঘদিন ধরে আমরা সেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “আন্দোলনের পথে আমরা অনেক সময় জিতেছি, অনেক সময় হেরেছি; কিন্তু লড়াই বন্ধ করিনি। শিক্ষার্থীরা যদি আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, তবে তারা এই চলমান লড়াইয়ে শরিক হবেন।”
ভিপি প্রার্থী ইমির অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট সমাধান। তার ভাষায়, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক নারী হলেও তাদের হলের সংখ্যা ছেলেদের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা নারীদের জন্য এটি বড় সংকট। নির্বাচিত হলে প্রশাসনকে এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নিতে বাধ্য করব।”
এ ছাড়া ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সহিংসতামুক্ত সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম আবাসন ও খাদ্যমান বজায় রাখা এবং বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
শেখ তাসনিম আফরোজের মতে, শিক্ষার্থীদের মতো শিক্ষকদের রাজনীতিতেও দলীয় প্রভাব বন্ধ করা জরুরি। “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনেক দায়িত্বশীল পদে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীরা সব সময় অবহেলিত থাকেন। আমরা চাই শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন দলীয় প্রভাবমুক্ত হোক এবং শিক্ষকদের জন্য একটি সুষ্ঠু মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে উঠুক,” বলেন তিনি।
প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রপার গ্রুমিং নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন ইমি।
নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রশাসন আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় না গিয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে। সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য অপমানজনক। আমরা তো অপরাধী নই, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে সেনাবাহিনী নামানোর কোনো প্রয়োজন নেই।”
সবশেষে নিজের আশাবাদ ব্যক্ত করে ইমি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নারী, আদিবাসীসহ সব শিক্ষার্থীর অধিকারের পক্ষে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। বৈচিত্র্যের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। শিক্ষার্থীরা এসব বিবেচনা করে আমাদেরই বেছে নেবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”



