বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

কন্যাশিশুর জন্মে হাসপাতাল খরচ মওকুফ, প্রশংসায় ভাসলেন গণেশ রাখ

WhatsApp Image 2025-08-28 at 6.02.13 PM

ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে শহরের এক চিকিৎসক গণেশ রাখ তাঁর ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সম্প্রতি আলোচনায় এসেছেন। তিনি গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের হাসপাতালে মেয়েশিশুর জন্ম হলে কোনো ধরনের খরচ নেন না। ইতিমধ্যে তাঁর হাসপাতালে বিনা খরচে জন্ম নিয়েছে এক হাজারেরও বেশি কন্যাশিশু।

এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসায় সরব হয়েছেন ভারতীয় শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “ঘরে দেবদূত এলে কেমন অনুভূতি হয়, আমি দুই মেয়ের বাবা হিসেবে দু’বার সেই আনন্দ পেয়েছি। তবে এই চিকিৎসক নিজেও একজন দেবদূত—দয়া ও মহানুভবতার দেবদূত।”

গণেশ রাখ ২০০৭ সালে নিজের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। শুরু থেকেই তাঁর লক্ষ্য ছিল কন্যাশিশুদের রক্ষা করা এবং সমাজের পুরোনো ধ্যানধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানানো। তিনি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “যেদিন মানুষ মেয়েশিশুর জন্মকে আনন্দের সঙ্গে উদ্‌যাপন করবে, সেদিন থেকে আমি ফি নেওয়া শুরু করব।”

নিজের হাসপাতালে জন্ম নেওয়া একটি শিশু কোলে চিকিৎসক গণেশ রাখ। ছবি: প্রশান্ত নায়ারের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া

সম্প্রতি আইএএস কর্মকর্তা প্রশান্ত নায়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। এক দিনমজুর সন্তান প্রসবের জন্য স্ত্রীকে গণেশ রাখের হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। অপারেশনের প্রয়োজন হলে খরচ মেটাতে বাড়ি বন্ধক রাখতে হবে কিনা—সে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। সন্তান জন্মের পর বাবা যখন লিঙ্গ জানতে চান, তখন গণেশ রাখ উত্তরে বলেন, “আপনার ঘরে দেবদূত এসেছে।” আর হাসপাতালের খরচ জানতে চাইলে তিনি জানান, “দেবদূতের জন্ম হলে আমরা কোনো খরচ নিই না।” এ কথায় আবেগাপ্লুত হয়ে দিনমজুর তাঁকে ‘দেবতা’ বলে সম্বোধন করেন।

আনন্দ মাহিন্দ্রা প্রশান্ত নায়ারের ওই পোস্টটি শেয়ার দিয়ে আরও লেখেন, “নতুন সপ্তাহ শুরু করার সেরা উপায় হলো নিজেকে প্রশ্ন করা—আপনার কাজ ও লক্ষ্য দিয়ে কীভাবে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেন?”

গণেশ রাখের এই উদ্যোগ ভারতীয় সমাজে গভীর আলোড়ন তুলেছে। যেখানে অনেক পরিবার এখনো মেয়েশিশুকে বোঝা মনে করে, সেখানে এই নীরব আন্দোলন সমাজের পুরোনো প্রথাগত মানসিকতাকে শক্তভাবে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাঁকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তুলেছেন। কেউ কেউ তাঁর কাজকে সাহসিকতা ও মানবিকতার প্রতীক বলেছেন। এক মন্তব্যে লেখা হয়েছে, “আমাদের পৃথিবীকে আরও সুন্দর করার জন্য ঈশ্বর তাঁকে পাঠিয়েছেন।” আরেকজন লিখেছেন, “চমৎকার উদ্যোগ। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—সমাজে এখনো কেন ছেলেসন্তানের জন্য এত প্রবল আকাঙ্ক্ষা?”