বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
স্পটলাইট

নারীর প্রতিনিধিত্ব, বাস্তবে উপেক্ষিত

songsod

ইতোমধ্যে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনটি অনেক সুপারিশের প্রস্তাব রেখছে। কিন্তু সুপারিশগুলো আলোচনায় না এসে সেগুলা উপেক্ষা করা হচ্ছে। যদিও নারীসমাজের উন্নয়নের জন্য এই সুপারিশগুলো করা হয়েছে।

কিন্তু সরকার এই কমিশনকে এখন পর্যন্ত সেভাবে গুরুত্ব সহকারে দেখছে না বা প্রাধান্য দিচ্ছে না। ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নারী কমিশন বিষয়ে কোনো আলোচনা সেখানে হয় না। ঐকমত্য কমিশনে নারীদের প্রতিনিধিত্ব দরকার কিন্তু নারী কমিশনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ ও মূল সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলোর কোনোটাই তাদের বৈঠকে উঠে আসে না। এমনকি নারীদেরও ডাকা হয় না।

ঐকমত্য কমিশনে দেশের রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি নারীদের প্রতিনিধি হিসেবে ডাকা হলে নারীদের কাছে যদি তাঁদের মতামত নেওয়া হয় তাহলে অনেক বিষয় সেখানে উঠে আসে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক দল ই নয় পাশাপাশি অন্য নাগরিকদেরও সম্পৃক্ত করা উচিত ছিল ঐকমত্য কমিশনে। রাজনীতিবিদরা সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করেন এমন না। 

আগামী নির্বাচনে নারীদের আসন সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তবে নারী সমাজের উন্নয়নে আসন সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষিত আসন থাকা টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অনেক সময় অযোগ্য অনেক প্রার্থী জয়ী হন, সংসদে যান। এ ধরনের ঘটনা নারীদের ব্যাপারেও ঘটে, তবে তাদের ওপর অতিরিক্ত শর্ত আরোপের করা হয়। তাই নারীদের সরাসরি রাজনীতিতে নির্বাচন প্রয়োজন।

সর্বস্তরে ৩৩ শতাংশ নারী থাকার কথা বলা হলেও এগুলো কোনো রাজনৈতিক দল মানেনি, বাস্তবায়ন করেনি। কিন্তু নারীদের জন্য কিছু সংরক্ষিত আসন এবং সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা আর রাজনৈতিক দলগুলোকে এক-তৃতীয়াংশ নারীকে নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়াটা এখন সময়ের দাবি।

আগামী সংসদ নির্বাচনে নারীদের মনোনয়নের ব্যাপারে এখনও ইতিবাচক কোনো কিছু দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে সংসদীয় পদ্ধতিতে মোট আসন রয়েছে ৩০০, যার মধ্যে ৫০টি নারীদের জন্য সংরক্ষিত। নতুন প্রস্তাবে ৪৫০ আসনের কথা বলা হয়েছে, যেটা জনসংখ্যা বৃদ্ধির ভিত্তিতে নির্ধারিত হচ্ছে। অন্য আরেক দল বলছে, ৩০০ থেকে ১০০ আসন বাড়িয়ে ৪০০ করা হোক। এই বাড়তি সংখ্যায় শুধু নারীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচনে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ও সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা থাকলে নারীরা আরও ক্ষমতায়িত হবেন। এবং সমাজের বৈষম্য কমে আসবে।

নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের যে মূল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের প্রতিনিধিত্ব যেন বাড়ে এ ব্যাপারে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো যদি এগিয়ে আসে তাহলে নারী সংস্কার কমিশনের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হবে পাশাপাশি বৈষম্যহীন নারীসমাজ গঠিত হবে এবং নারীরা আরও এগিয়ে যাবে।