বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

জাকসু নির্বাচনে ভিপিসহ চার পদে নারীশূন্য, প্রার্থীদের ২৫% নারী

nir dak

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদে মোট ৭৪০টি মনোয়নপত্র জমা পড়েছে। তবে প্রার্থীদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা অনেক কম। মোট প্রার্থীর ২৫ শতাংশ নারী। অথচ এ নির্বাচনে ভোটারদের প্রায় অর্ধেকই ছাত্রী। ভিপিসহ চার পদে কোনো ছাত্রী প্রার্থী হননি। 

গত বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ছিল। কেন্দ্রীয় সংসদে ২৫ পদের বিপরীতে ২৭৩ এবং ছাত্রদের ১১ ও ছাত্রীদের ১০ হল সংসদে ১৫টি করে মোট ৩১৫ পদের বিপরীতে ৪৬৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। দুই সংসদ মিলে ৮১৩টি মনোনয়নপত্র বিতরণ হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য, নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ হাজার ৯১৯ জন। এর মধ্যে ছাত্র ছয় হাজার ১০২; ছাত্রী পাঁচ হাজার ৮১৭। মোট ভোটারের ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ ছাত্রী।

নির্বাচনে ছয়টি সংরক্ষিত পদ থাকলেও তাতে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ তেমন নেই বললেই চলে। সহসম্পাদক (এজিএস), সহক্রীড়া সম্পাদক, সহসমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক এবং তিনটি কার্যকরী সদস্যসহ সংরক্ষিত ছয় পদে মনোনয়ন জমা পড়েছে মাত্র ৪৩টি।

সহসভাপতি (ভিপি) পদে ২১ প্রার্থীর মধ্যে কোনো ছাত্রী নেই। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ৯, ক্রীড়া সম্পাদক পদে পাঁচ, সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক পদে ১৫ এবং পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে ৯ প্রার্থীর মধ্যে একজনও নারী প্রার্থী নেই। শুধু সংরক্ষিত নারী সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রার্থী হয়েছেন ১০ জন। এছাড়াও নাট্য সম্পাদক পদ, তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক পদ এবং স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সম্পাদক পদে প্রার্থীর মধ্যে ছাত্রী রয়েছেন একজন করে। শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ১৩ প্রার্থীর মধ্যে ছাত্রী তিন, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সম্পাদক পদে ১৪, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ৯ ও সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ১১ প্রার্থীর মধ্যে দুজন করে ছাত্রী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

ছাত্রী হলগুলোতে পদের তুলনায় প্রার্থী কম। নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলে ছয় জন, ১৩ নম্বর ছাত্রী হলে ছয়, সুফিয়া কামাল হলে ১০, বেগম খালেদা জিয়া হলে ১১ ও প্রীতিলতা হলে ১৩ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ফজিলাতুন্নেছা হলে ১৫, জাহানারা ইমাম হলে ১৬ এবং ১৫ নম্বর ছাত্রী হল, বীরপ্রতীক তারামন বিবি হল ও রোকেয়া হলে ১৭ জন করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এসব হলে বেশির ভাগ পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনেকে বিজয়ী হতে চলেছেন। এছাড়াও নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোনো প্যানেলে শীর্ষ দুই পদে নারী প্রার্থী দেখা যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পরিসরেও নারীদের উপস্থিতি কম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীরা ভীষণ প্রতিবাদী। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে। অবহেলা, নিরাপত্তাহীনতা, অনলাইনে হয়রানি-বুলিংয়ের কারণেও নির্বাচন ছাত্রীরা সেভাবে সক্রিয় নয়।’

ছাত্রী হলে প্রার্থী কম হওয়ার বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকে আগ্রহী হলেও পরিবারের সম্মতি না পাওয়ায় নির্বাচনে অংশ নেননি। এ ছাড়া অনেকেই পড়াশোনা শেষ হওয়ার কারণে ভোটার হতে পারেননি। ফলে তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।