ইমিগ্রেশনে যেসব কথা আপনার ভ্রমণ ব্যাহত করতে পারে

আন্তর্জাতিক ভ্রমণে ইমিগ্রেশন, এ যেন এক প্রকার চাপ। সবকিছু ঠিক থাকার পরও একটি ভুল শব্দ আপনার প্রবেশ বিলম্বিত করতে পারে, ভিসা দিতে অস্বীকারও করা সহ বিভিন্ন সমস্যায় ফেলতে পারে।
ইমিগ্রেশনের এই কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনি যা বলবেন তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইমিগ্রেশনের সময় আমাদের কয়েকটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। ফলে ইমিগ্রেশন আমাদের জন্য সহজ হবে। এমন কিছু বলা যাবে না যা আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা নষ্ট করতে পারে।
‘কোথায় থাকব ঠিক বুঝতে পারছি না‘
আপনি যে দেশে যাচ্ছেন সেখানে কোথায় থাকবেন তা আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখুন। ইমিগ্রেশন অফিসাররা যেন প্রমাণ করতে না পারে যে আপনি পরিকল্পনা ছাড়া প্রবেশ করছেন। সবসময় হোটেল বুকিং নিশ্চিতকরণ, হোটেলের ঠিকানা, অথবা আপনি যে বন্ধু বা আত্মীয়ের কাছে বেড়াতে যাচ্ছেন তার ঠিকানা রাখুন। বুকিংয়ের একটি প্রিন্ট কপি থাকলে ইমিগ্রেশন অফিসার বুঝবে যে আপনি দায়িত্বের সঙ্গে আপনার থাকার পরিকল্পনা করেছেন।
‘কর্মসংস্থানের উদ্দেশে এসেছি’
কাজের ভিসা না থাকলে কখনোই বলবেন না যে আপনি কাজ করতে যাচ্ছেন। অনেক ভ্রমণকারী যখন কোনো বৈঠক বা সম্মেলনে যোগদানের কথা বলেন তখন তারা ‘কাজ যাচ্ছি’ বলেন। এটি সন্দেহের উদ্রেক করতে পারে। আপনি যদি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করেন, তাহলে বলবেন আপনি কোনো সভা, সেমিনার বা প্রশিক্ষণের জন্য যাচ্ছেন।
‘অনলাইনে পরিচয় এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে যাচ্ছি’
অফিসাররা অস্পষ্ট সম্পর্কের ব্যাপারে সতর্ক থাকেন। তাই বলতে হবে আপনি কোনও ‘বন্ধু’ বা ‘আত্মীয়’-এর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন এবং তাদের সম্পূর্ণ ঠিকানা প্রস্তুত রাখুন। যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, তাহলে প্রসঙ্গটি বলুন। একটি অস্পষ্ট উত্তর আরও প্রশ্ন জিজ্ঞাসার জন্ম দিতে পারে। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
‘ফিরতি টিকিট নেই‘
রিটার্ন টিকিট না থাকলে সমস্যার সৃষ্টি করে। আপনি দেশে অতিরিক্ত সময় ধরে থাকতে পারেন অথবা অবৈধভাবে বসবাস করতে পারেন এমনটাই ধারণা করতে পারেন ইমিগ্রেশন অফিসারেরা। এমনকি যদি আপনি স্থলপথে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন বা এখনও আপনার ফ্লাইট বুক না করে থাকেন, তবুও একটি ফেরতযোগ্য রিটার্ন টিকিট থাকাটা ভালো।
‘সেখানে পৌঁছেই সব ঠিক করব‘
আপনার ভ্রমণ সম্পর্কে একটি অস্পষ্ট উত্তর আপনাকে অপ্রস্তুত দেখায় এবং আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করে। তাই ভ্রমনের আগে পরিকল্পনা তৈরি করুন। আপনি কোন শহরগুলোতে যাবেন, আপনি কোন ট্যুর বুক করেছেন, অথবা আপনি যে জায়গাগুলো উপভোগ করতে চান তা তাদের বলুন। স্পষ্ট উত্তর অফিসারদের আশ্বস্ত করে যে আপনি একজন প্রকৃত দর্শনার্থী।
‘অপরাধ, মাদক এবং বোমা‘
মাদক বা বোমা সম্পর্কে একটি যেকোনো মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে আপনার ভ্রমণকে ব্যাহত করতে পারে এবং আটক, জিজ্ঞাসাবাদ, এমনকি জরিমানা পর্যন্ত করতে পারে। নিরাপত্তা এবং অভিবাসন কর্মকর্তারা আপনার উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, এই ধরনের মন্তব্যকে খেয়াল করেন। একটি রসিকতাও আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত করতে পারে। তাই এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
‘পর্যাপ্ত টাকা নেই’
অভিবাসন কর্মকর্তারা জানতে চান যে ঘুরতে যাওয়ার সময় নিজের খরচ বহন করতে পারবেন কি না। আপনার কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই বললে তাঁদের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। সব সময় ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্রেডিট কার্ড, এমনকি প্রয়োজনে নগদ অর্থের মতো প্রমাণ বহন করুন।
ঠিকভাবে আপনি উত্তর দিতে না পারলে তাঁর মানে এই না যে আপনাকে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো হবে। তবে আপনাকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আরও প্রশ্ন করতে পারে। দ্বিতীয় পরিদর্শনের জন্য সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। পরবর্তীতে আপনার আবার নথিপত্র যাচাই করবেন। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগতে পারে এবং আপনার ভ্রমণের শুরুতেই চাপ তৈরি হতে পারে। তাই এসব বিষয় আমাদের মাথায় রাখা উচিত। ফলে চাপ ছাড়াই ভ্রমণটি হবে সুন্দর।



