বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

শিশুদের ‘চাপ’ এড়াতে পাঠ্যসূচি থেকে বিবর্তনবাদ বা/দ দেয়ার আইনি নোটিশ

WhatsApp Image 2025-08-20 at 7.39.42 PM

২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক থেকে চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্ব বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা, শিক্ষা সচিব ও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যানকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার বাসিন্দা মো. আরিফের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সারোয়ার হোসেন রোববার এ নোটিশ পাঠান।

বিষয়টি জানাতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে আইনজীবী সারোয়ার হোসেন বলেন, নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে মানবজন্মের বিবর্তনবাদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। তাঁর দাবি, পৃথিবীর বহু দেশে মাধ্যমিক স্তরে এ বিষয়টি পড়ানো হয় না।

তবে আন্তর্জাতিকভাবে পাওয়া তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। মার্কিন শিক্ষাবিদ হাসান ডেনিজ ও লিসা বোর্গার্ডিংয়ের Evolution Education Around the Globe বইয়ে উল্লেখ আছে, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু অঞ্চলে ১০ বছরের নিচে শিশুদেরও ডারউইনের তত্ত্ব পড়ানো হয়। আবার জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইজারল্যান্ডসহ আরও অনেক দেশে ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমেই এ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আরও কিছু দেশে যেমন ব্রাজিল, মিশর, মালয়েশিয়া বা তিউনিশিয়ায় ১৪ বছরের পর স্কুল লেভেলে এ তত্ত্ব শেখানো হয়।

ঢাকার সাউথ ব্রিজ স্কুলের শিক্ষক রাফিয়া আমান খান জানান, বাংলাদেশে প্রচলিত কেমব্রিজ ও এডেক্সেল—দুই ব্রিটিশ কারিকুলামেই ও-লেভেলে বিবর্তনবাদ অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, “আমি প্রায় এক দশক ধরে শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে পড়াচ্ছি। আমাদের ব্যবহৃত জীববিজ্ঞানের বইয়েও এ অংশ রয়েছে।” সাউথ ব্রিজের অপর শিক্ষক আলফ্রেড ডি সিলভাও একই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তবে আইনজীবী সারোয়ার হোসেনের যুক্তি হলো, বিবর্তনবাদ পড়ানো হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাঁর দাবি, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে এ ধরনের বিষয় মাধ্যমিক স্তরে থাকা উচিত নয়। “আদম ও হাওয়া থেকে মানবজাতির উৎপত্তি আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস। বিবর্তনবাদ পড়ানো গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে হতে পারে, কিন্তু মাধ্যমিকে নয়,” বলেন তিনি।

এর বিপরীতে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, কেমব্রিজ ও এডেক্সেল কারিকুলাম—যা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে অনুসৃত—সে পাঠ্যক্রমে বিষয়টি ইতোমধ্যেই বাধ্যতামূলক।

ডারউইনের লেখা On the Origin of Species প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালে। তাতে প্রাণীজগতে অভিযোজনের মাধ্যমে প্রজাতির রূপান্তরের ধারণা তিনি উপস্থাপন করেন। তবে বিবর্তনবাদ কেবল ডারউইনের সৃষ্টি নয়—ইসলামিক বিশ্বের এক হাজার বছর আগেই ইরাকের দার্শনিক আল-জাহিজ প্রাণীর প্রাকৃতিক পরিবর্তন ও ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’ নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।

এ বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা, শিক্ষা সচিব ও এনসিটিবি চেয়ারম্যানের মন্তব্য পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা সাড়া দেননি।