জুলাই আন্দোলনে আহত তন্বীর পদে প্রার্থী দেয় নি ছাত্রদল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ২৭ সদস্যের এই প্যানেল ঘোষণা করলেও একটি পদে প্রার্থী দেয়নি। আজ বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাবির অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সংবাদ সম্মেলন নিজেদের প্যানেল ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। প্যানেল ঘোষণার সময় তিনি বলেন, এ পদে তন্বির সম্মানে তাদের সংগঠনের কাউকে রাখা হয়নি। একইসঙ্গে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাকে পূর্ণ সমর্থন করছি।
১৫ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী সানজিদা আহমেদ তন্বি। তার সম্মানে গবেষণা ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক পদে কোনো প্রার্থী দেয়নি ছাত্রদল এবং গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদসহ ছয়টি প্যানেল।
গত সোমবার গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের এক ফেসবুক পোস্টে তাদের প্যানেলে এই পদে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দেন। তিনি পোস্টে লেখেন, ‘তন্বি আমাদের জুলাইয়ে গর্জে ওঠা প্রতিরোধের অনুপ্রেরণা। তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমাদের সমর্থিত প্যানেলে ‘গবেষণা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক’ পদটি শূন্য রাখা হয়েছে।’
অন্যদিকে, স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বহিষ্কৃত যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকারের নেতৃত্বাধীন ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ নামে প্যানেল থেকেও এই পদে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলে জানা গেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা তার ফেসবুক পোস্টে তন্বিকে শুভকামনা জানিয়েছেন। তবে তার স্বতন্ত্র প্যানেলে এই পদে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি-না, তা এখনও জানা যায়নি।
গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে মনোয়নপত্র জমা দেন তন্বি। তবে তিনি কোনো প্যানেলে যোগ না দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন। তিনি বলেন, ডাকসুর অন্য কোনো পোস্টে নির্বাচন না করে এই পদে নির্বাচন করার উদ্দেশ্য হচ্ছে- গবেষণাকর্মে আমার অভিজ্ঞতা, কাজ ও ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রে নিজের আগ্রহ।
তিনি আরও বলেন, গবেষণায় শিক্ষার্থীদের জন্য ফান্ডিং নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করার জন্য বিভিন্ন জার্নালের অ্যাক্সেস দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডিংয়ের বাইরে কর্পোরেট, অ্যালামনাই বা এনজিওর সঙ্গে সমন্বয় করে গবেষণা ফান্ডিং আনা, ভালো মানের গবেষণার ক্ষেত্রে স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা ও সভা-সেমিনারের মাধ্যমে তাদের উৎসাহ দিয়ে গবেষণাকে শিক্ষার্থীদের কাছে আগ্রহের জায়গা হিসেবে তৈরির সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।



