বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
জীবনযাপন

সন্তানদের সঙ্গে গড়ে তুলুন ভালো সম্পর্ক

IMG_7305

বাবা-মা হওয়া আনন্দের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও বয়ে আনে। প্রত্যেক শিশু ও বাবা-মা আলাদা। তাই যেকোনো পরামর্শ শুনলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার শিশুর প্রতি সংবেদনশীল থাকা এবং তার প্রয়োজন বুঝে সাড়া দেওয়া।

অ্যারাইজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির শিশু-বিকাশ বিশেষজ্ঞ ড. কিথ ক্রনিক বলেন, “সংবেদনশীল ও প্রতিক্রিয়াশীল পিতামাতা হওয়ার মানে হলো, আপনি বুঝতে পারছেন শিশুর ঠিক কখন কী প্রয়োজন এবং সেটি সঠিকভাবে দিচ্ছেন।” ছোট শিশু বা নবজাতকের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর সঙ্গে ঘন ঘন ভালোবাসা প্রকাশ, কাঁদলে সাড়া দেওয়া এসব মাধ্যমে এক গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়।

শিশুর সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক শিশুদের আবেগ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং নতুন কিছু শেখার উৎসাহ জাগায়। বিশেষজ্ঞরা একে ‘নিরাপদ আবেগীয় বন্ধন’ বলেন। এ ধরনের বন্ধন থাকলে শিশুরা কঠিন পরিস্থিতি যেমন দারিদ্র্য, পরিবারের অস্থিরতা বা বাবা-মায়ের মানসিক চাপ সামলে ওঠাতেও সক্ষম হয়। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ শিশুর মধ্যে ৬ জনের সঙ্গে এমন বন্ধন তৈরি হয়। বাকিদের ক্ষেত্রে এই বন্ধনের অভাব শিশুর আচরণে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

আজকের ব্যস্ত জীবনে কাজের চাপ, ঘুমের অভাব বা মোবাইলের কারণে বাবা-মা অনেক সময় শিশুদের প্রতি পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারেন না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন ‘বিক্ষিপ্ত প্যারেন্টিং’ শিশুদের আবেগগত বিকাশ ও সামাজিক আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। ড. ক্রনিক বলেন, “শিশুদের জীবনে এমন মুহূর্ত আসে যখন তারা আপনার মনোযোগ ও স্বীকৃতি চায়।” শিশুর রাগ, চিৎকার বা ঝগড়ার সময় সংবেদনশীল থাকা কঠিন হতে পারে। কিন্তু রেগে গেলে শিশু সেই আচরণ শিখে নেবে এবং নেতিবাচক চক্র শুরু হবে। সাধারণত ৩ বছর বয়সে শিশু নিজে থেকে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। তার আগে তারা বাবা-মার আচরণ দেখে শেখে কীভাবে কথা বলা, রাগ সামলানো বা উত্তেজনা প্রকাশ করা যায়।

শিশুকে নিজের আবেগ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা শেখানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাকে সমস্যার সমাধান করার দক্ষতাও শেখাতে হবে। ড. মেটজলার বলেন, “যখন বাবা-মা শিশুকে ইতিবাচকভাবে শেখান, তখন শিশুরা নিয়ম মানতে ও নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে শেখে।” শিশুকে সব সময় কঠিন অভিজ্ঞতা থেকে রক্ষা করলে সে নিজে সমস্যা সামলাতে শিখবে না। তাই ছোটখাটো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে দিন এবং পরে একসাথে সমাধান খুঁজুন। এতে শিশু বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ হয়।

শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মনে রাখতে হবে। প্রয়োজন পূরণ করা মানে সব ইচ্ছে পূরণ করা নয়। ড. ক্রনিক বলেন, “একজন দক্ষ পিতামাতা বুঝে নেয়, শিশুর ঠিক কি প্রয়োজন।” শিশুর শেখার ধাপ অনুযায়ী তাকে সহায়তা দিন, হোক তা আবেগ নিয়ন্ত্রণ, নতুন কিছু শেখা বা বন্ধুদের সঙ্গে মিশে চলা। শিশুকে সুযোগ দিন নিজে নেতৃত্ব নিতে। যেমন খেলাধুলা বা আড্ডায় নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দেওয়া।

শিশুর প্রকৃত চাহিদার দিকে মন দিন। সম্পর্ক জটিল হয়ে গেলেও কখনো দেরি হয় না। নতুনভাবে শুরু করা সবসময় সম্ভব। ড. মেটজলার বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শিশুকে বোঝানো যে আপনি তাকে ভালোবাসেন এবং সবসময় তার পাশে আছেন।” বড় শিশুর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে তাদের জানান যে আপনি আন্তরিকভাবে আগ্রহী এবং তাদের সফল দেখতে চান।

সন্তানের সঙ্গে সংযোগ গড়ার জন্য কিছু সহজ টিপস রয়েছে। ভালো আচরণ করলে ধন্যবাদ জানান ও নির্দিষ্টভাবে প্রশংসা করুন। ঘরের ছোট কাজগুলোতে দায়িত্ব দিন এবং শেষে প্রশংসা করুন। গলা চড়ানো বা কঠোর কথা না বলে নম্রভাবে নির্দেশ দিন। প্রতিদিন কিছু সময় একসাথে কাটান। একসাথে করতে পারেন হাঁটাহাঁটি, বই পড়া ইত্যাদি। সমস্যা হলে একসাথে সমাধান খুঁজুন। মোবাইল বা অন্য মনোযোগ নষ্ট করা জিনিসের সময় বেঁধে দিন। সন্তানের চিন্তা, ভয়, লক্ষ্য ও স্বপ্ন শুনুন এবং তার পছন্দের কার্যক্রমে যুক্ত থাকুন।