বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
স্পটলাইট

মনে হয় না পিতৃত্বকালীন ছুটির আলাদা প্রয়োজন আছে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

begum

সোমবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে একটি কর্মশালা আয়োজন করে। এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।

তিনি বলেন, “আমি নিজেও মা। আমার মনে হয় না আলাদা পিতৃত্বকালীন ছুটির প্রয়োজন আছে। তবে যদি দেওয়া হয় শর্ত থাকতে হবে। কিছু বিষয় লিখিতভাবে জানাতে হবে যেমন- পিতা কতক্ষণ শিশুকে দেখেছেন, শিশুর যত্ন নিয়েছেন, মাকে সাহায্য করছেন।”

মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মাতৃদুগ্ধ নিয়ে কাজ শুধু সরকার বা স্বাস্থ্য সেক্টরের নয়। এনজিও কর্মী থেকে শুরু করে মসজিদের ইমামেরও। এ বিষয়ে মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় সচেতনতামূলক কথা বলা যেতে পারে। মিডিয়া আমাদের কাজ, সচেতনতামূলক কার্যক্রমগুলো উপস্থাপন করে তাহলে জাতিকে সঠিক পথ দেখাতে পারে।

বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস কে রায় বলেন, ধীরে ধীরে দেশে মাতৃদুগ্ধপানের হার কমছে। ২০১৭-১৮ সালে প্রথম ছয় মাসে মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার ছিল ৬৫%, যা ২০২২ সালেির কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮%। তিনি বলেন, এসবের কারণ হলো সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ঘাটতি, ব্রেস্ট-মিল্ক সাবস্টিটিউট (বিএমএস) আইন প্রয়োগ না হওয়া এবং কর্মজীবী মায়েদের পর্যাপ্ত ছুটি না পাওয়া।

নূরজাহান বেগম বলেন, “শিশুদের গুঁড়া দুধ খাওয়ানোর পরিবর্তে মাতৃদুগ্ধের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। এজন্য সচেতনতা তৈরি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, “চিকিৎসকদের দোষারোপ করে লাভ নেই। যেখানে ধারণ ক্ষমতার চেয়েও বেশি রোগী আসে। ধারণক্ষমতা যেখানে ২,৬০০ সেখানে রোগী আসে ৫ হাজার। ৬৫% ডেলিভারি হয় হাসপাতাল বা ক্লিনিকে এবং ৩৫% বাসায়। তাই ধাত্রীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে।”

স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সরোয়ার বারী বলেন, “মেধাসম্পন্ন জাতি গড়তে চাইলে শিশুকে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে।”

মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে শিশুদের গুঁড়া দুধ খাওয়ালে তা শিশুদের পুষ্টির চাহিদা ঠিকভাবে পূরণ করতে পারে না। তাই এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে প্রতিটি পরিবারকে। পাশাপাশি এ বিষয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে যাতে শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান থেকে বঞ্চিত না হয়।