বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

অক্সিজেন খুলে গিয়ে নি/ভে গেল নবজাতকের প্রাণ

IMG-20250817-WA0002

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ছাতিয়ানি গ্রামের গৃহবধূ রুমা বেগম সন্তান জন্মের পর থেকেই হাসপাতালে শয্যাশায়ী। গত বৃহস্পতিবার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে তিনি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। জন্মের অল্প সময় পরই নবজাতকের শ্বাসকষ্ট ও জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার উদ্যোগ নেয় পরিবার। কিন্তু স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্সচালক চক্রের বাধার কারণে নবজাতক সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মারা যায়।

হঠাৎ মৃত্যু সংবাদ শুনে ভেঙে পড়েছেন রুমা বেগম। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তিনি অঝোরে কাঁদছেন। পাশে বসে থাকা তিন বছরের মেয়ে মায়ের কান্নায় বিভ্রান্ত হয়ে তাকিয়ে থাকছে বারবার। মায়ের পাশে রয়েছেন রুমার মা শেফালি বেগম ও বোন জায়েদা ইসলাম। কিন্তু কারও সান্ত্বনায় ভরসা পাচ্ছেন না তিনি।

কাঁদতে কাঁদতে রুমা বলেন, “আমার নিষ্পাপ শিশুটি কী অপরাধ করেছিল? জন্মের পাঁচ ঘণ্টার মাথায় কেন তাকে চলে যেতে হলো? আমি তো তাকে স্পর্শও করতে পারলাম না।”

রুমার মা শেফালি বেগম জানান, মেয়ে এক মাস আগে সন্তান জন্মদানের জন্য ঢাকায় থাকা স্বামীর কাছ থেকে গ্রামে এসেছিল। প্রসবের পর নবজাতকের শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকায় নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে স্থানীয় কিছু অ্যাম্বুলেন্সচালক ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেয়। বহু অনুনয়-বিনয়ের পরও তারা ছাড়েনি। দীর্ঘ বিলম্বেই শিশুটি মারা যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নবজাতককে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স আটকান স্থানীয় চালক সবুজ দেওয়ানসহ কয়েকজন। কেন স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স বাদ দিয়ে ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্স নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েই শুরু হয় বিরোধ। এ সময় মারধর ও ধস্তাধস্তির মধ্যেই শিশুর অক্সিজেন মাস্ক খুলে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বের পর শিশুটি মারা যায়।

নবজাতকের বাবা নূর হোসেন বলেন, “অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়ার সময় ছেলেটি আমার কোলে ছিল। ধস্তাধস্তিতে তার মুখ থেকে অক্সিজেন সরে যায়। আমরা লাগানোর চেষ্টা করলেও সঠিকভাবে করতে পারিনি। তর্ক-বিতর্ক আর অনুনয়ে ঘণ্টাখানেক কেটে যায়, ততক্ষণে আমার মানিক চলে যায়।”

তিনি আরও জানান, স্ত্রীর মানসিক অবস্থা নিয়ে এখন তিনি গভীর দুশ্চিন্তায় আছেন।

এ ঘটনায় নূর হোসেন পালং মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত করা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্সচালক সবুজ দেওয়ান, তার বাবা সিভিল সার্জনের গাড়িচালক তাহের দেওয়ান, অবসরপ্রাপ্ত চালক আবদুল হাই ও স্থানীয় বিল্লাল হোসেনকে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, মামলার প্রধান আসামি সবুজ দেওয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ছবি: প্রথম আলো